ফরিদপুর-১ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য (এমপি) শাহ মো. আবু জাফর বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ ত্যাগ করে জনতার পার্টি বাংলাদেশে যোগদান করেছেন। এ নিয়ে তিনি সাতবার দলবদল করলেন বলে জানা গেছে। বারবার দলবদল করায় তাকে নিয়ে ফরিদপুর-১ আসনের (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) নির্বাচনী এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ছেড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে (বিএনএম) যোগ দিয়েছিলেন। তারও আগে আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন বাকশাল, আব্দুর রাজ্জাকের বাকশাল থেকে সরদার আমজাদ গ্রুপের বাকশাল, সরদার আমজাদ গ্রুপের বাকশাল থেকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি, সেখান থেকে নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবং পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
গত ২৫ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে গঠিত জনতা পার্টি বাংলাদেশে যোগ দেন শাহ্ মোহাম্মদ আবু জাফর। তাকে পার্টির উপদেষ্টা পদ দেওয়া হয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নবগঠিত বিএনএম-এ যোগ দিয়ে ফরিদপুর-১ আসন থেকে নোঙর মার্কা প্রতীকে অংশ নেন শাহ্ মোহাম্মদ আবু জাফর। কিন্তু বিপুল ভোটে পরাজিত হন। এমনকি তার জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়। বিএনএমে যোগ দিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যপদও ছাড়েন তিনি।
জানা যায়, ১৯৭৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দল থেকে চারবার এমপি নির্বাচিত হন শাহ মো. আবু জাফর। ১৯৭০ সালে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি তার। সে সময় (১৯৭০-৭১) তিনি ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর ফরিদপুরের মুজিব বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে ফরিদপুর-৪ (বর্তমানে ফরিদপুর-১) আসন থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮১ সালে প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বাকশালে যোগ দেন। পরবর্তীতে বাকশালের সরদার আমজাদ গ্রুপে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ-বাকশাল জোট থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে তৃতীয়বার এমপি নির্বাচিত হন।
নব্বই পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টিতে ভাঙন দেখা দিলে এরশাদকে ছেড়ে নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন শাহ মো. আবু জাফর। পরে ২০০৩ সালে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর কাজী সিরাজুল ইসলাম পদত্যাগ করলে তার শূন্য আসনে ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে বিএনপিদলীয় এমপি নির্বাচিত হন। পরে আবু জাফর কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য হয়ে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ২০২৩ সালে বিএনপি ছেড়ে দেন শাহ্ জাফর। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট (বিএনএম) এ যোগ দেন এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বাধীন জনতা পার্টি বাংলাদেশে যোগ দেন।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শাহ মো. আবু জাফর বলেছিলেন, ‘নির্বাচন করতেই বিএনপি ছেড়ে বিএনএমে যোগ দিয়েছি। ফরিদপুর-১ আসনের জনসাধারণকে কোনো অরাজনৈতিক মানুষের হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। আমি আমার এলাকার মানুষের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাছাড়া আমি সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করেছি। শেষ বয়সে এটাই আমার শেষ নির্বাচন।’
