উপদেষ্টা সাখাওয়াত

ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ৬ লেন মহাসড়ক ও মীরগঞ্জ সেতুর কাজ শিগগিরই শুরু

আপডেট : ১০ মে ২০২৫, ০৭:৪২ পিএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় জেলার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ খুব দ্রুতই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। পাশাপাশি বরিশালের মুলাদী-বাবুগঞ্জের বহু প্রতীক্ষিত মীরগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ আগামী ডিসেম্বরেই শুরু হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শনিবার (১০ মে) বিকেল ৪টায় বরিশাল সার্কিট হাউজের ধানসিঁড়ি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বরিশালের সন্তান হিসেবে এই অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বিগত ১৭ বছরে বরিশাল অঞ্চলে প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। ঢাকার উন্নয়নের তুলনায় এই এলাকায় রাস্তাঘাট এখনো হাঁটার উপযোগী হয়নি। যতটুকু হয়েছে, তা সাবেক মেয়র হিরনের সময়ে হয়েছে।’

তিনি জানান, বরিশাল-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে এবং প্রথম ধাপে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে অন্য অংশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে।

মীরগঞ্জ সেতু নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সেতুটি নিয়ে বরিশালের মানুষ বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। এটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে কেবিনেট সেক্রেটারি মাহাবুবুর রহমানও গুরুত্ব দিয়েছেন। আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হবে।’

বরিশাল ক্রীড়াঙ্গনের প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, ‘বরিশালের স্টেডিয়ামে উন্নয়ন কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে হচ্ছে এবং মানসম্পন্ন নয়। আমি বিসিবির চেয়ারম্যান ও সিইওর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই স্টেডিয়াম খেলার উপযোগী হবে। অন্তত আঞ্চলিক পর্যায়ের খেলা যেন তখন অনুষ্ঠিত হয়, সেটিই আমাদের চাওয়া।’

তিনি আরও বলেন, হিজলার মৌলভীর হাট লঞ্চঘাট পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং সেখানে ড্রেজিং চলছে। বরিশাল বিভাগে ৭-৮টি বিশ্বমানের লঞ্চঘাট তৈরি ও নতুন রুট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্টিমার সার্ভিস পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি জানান, ‘বরিশালের ঐতিহ্যবাহী স্টিমার সার্ভিস চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দুটি স্টিমারের মেরামত কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী ৫-৭ মাসের মধ্যেই সেগুলো আবার চলাচল শুরু করবে।’

তিনি বরিশালের খাল পুনঃখনন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য শোধনাগার নির্মাণ এবং মেহেন্দিগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পসহ আরও বেশ কিছু উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।

বেল্স পার্ক প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘এই পার্কটি একসময় বরিশালের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ছিল। আমি চাই এটি আবার প্রাণ ফিরে পাক। এখানে থাকবে ফুডজোন, থাকবে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক পরিবেশ। অবৈধ স্থাপনা থাকবে না।’

মতবিনিময় সভায় বরিশালের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা অংশ নেন এবং উপদেষ্টার কাছে নৌ, সড়ক, বিমানসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন উদ্যোগের জন্য মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত