গজারিয়ার যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, আটক ৩

আপডেট : ১৩ মে ২০২৫, ০২:৩৯ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর এক অভিযানে পিস্তলের গুলিসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসজ্জা ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আটকরা হলেন—উত্তর জামালপুর গ্রামের মৃত আমজাদের ছেলে সৈয়দ আলী (৬৫), মৃত কয়মের ছেলে ইমান (৬০) এবং আলমের ছেলে মনির হোসেন (২৯)।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গজারিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গোপনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এ চক্রকে ধরতেই মঙ্গলবার ভোরে শুরু হয় এই ব্যাপক অভিযান, যাতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‍্যাব ও নৌ পুলিশের শত শত সদস্য অংশ নেন।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় উত্তর জামালপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মোশারফের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়—২টি খালি ম্যাগাজিন, ৫১টি বিভিন্ন ধরনের তাজা গুলি, ২টি পিস্তলের কভার, ১টি কুড়াল, ১টি টেটা, ১টি এমোনেশন বক্স, ১টি গুলতি, ১টি ট্রলারের পাখা, ১টি বড় রামদা, ১১টি ছুরি, ২টি বাইনোকুলার, সেনাবাহিনীর পোশাক সদৃশ কাপড় ও নগদ ৫৯ হাজার ৫৬০ টাকা।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম এবং গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন শরীফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ এবং গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ।

এই নজিরবিহীন অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকা জুড়ে। নদীতে অন্তত ১৫টি স্পিডবোট টহল দিতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত ও আটক করা সম্ভব হবে।

বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী কৌশলে পালিয়ে গেলেও তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। অভিযানে পিস্তলের গুলি, রামদা, ছুরি সহ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত