অন্তর্বর্তী সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা আন্দোলনস্থল থেকে ফিরে গেছেন। শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় তিনটি দাবি মেনে নেওয়ায় অনেকেই ফিরে গেলেও শিক্ষার্থীদের একাংশ থেকে যান। তবে রাত ১১টার দিকে একে একে তারাও আন্দোলনস্থল ত্যাগ করেছেন।
এর আগে সব দাবি মেনে নিয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। পরে এক শিক্ষার্থীকে পানি পান করিয়ে গণ-অনশন ভাঙান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ।
এসময় জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম , সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন বাজেট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ বৃদ্ধি করে শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত অস্থায়ীভাবে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। এছাড়া দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (১৪ মে) বেলা পৌনে ১২টায় ৩ দফা দাবি আদায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা দিকে রওনা হয়। পদযাত্রা প্রথমে গুলিস্তান মাজার গেট বাধার সম্মুখীন হয়। পরে মৎস ভবনে ফের পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনা অভিমুখে এগিয়ে যেতে থাকেন জবি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং মোড়ে আসতেই অতর্কিত টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, গরম পানি নিক্ষেপ করতে শুরু করে পুলিশ। এতে শিক্ষক শিক্ষার্থী সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হন।
এ হামলার পর তিন দফা দাবির সঙ্গে নতুন আরও এক দাবি যুক্ত করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। বাকি তিন দফা দাবি হলো— বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে আবাসন বৃত্তি চালু করা, জবির প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করে অনুমোদন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ একনেক সভায় পাস ও বাস্তবায়ন।
অনশন ভাঙেনি জবি শিক্ষার্থীরা, এখনও অবস্থান যমুনার সামনে