বজ্রপাতে প্রাণহানি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ মর্মে রুল দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে সোমবার (১৯ মে) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুলসহ আদেশ দেন।
আদেশে বজ্রপাত বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের মূল্যায়ন এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন হলফলনামার মাধ্যমে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব, পরিবেশ সচিব, পরিকল্পনা সচিব, স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক কে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৩ মে মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছারের পক্ষে এ রিট আবেদনটি করা হয়। এতে বলা হয়, বজ্রপাতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বিশেষত কৃষক ও জেলেরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, বজ্রপাতে নিহত ১৭৭ জনের মধ্যে ১২২ জনই কৃষক। বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা এখন অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন সাইক্লোন, বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যার চেয়ে বেশি। গ্রামীণ এলাকার বিস্মৃত জমি, খোলা মাঠ ও খেলার মাঠ এখন বজ্রপাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যদিও সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে ঘোষণা করেছে, তবু বজ্রপাতের ফলে হতাহতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত গৃহীত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ কাওছার ও নাঈম সরদার।
ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষের জীবনের অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। আর মানুষের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। শুধু তাই নয়, বজ্রপাতে নিহতদের পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আদালত রুল ও আদেশ দিয়েছেন।’
ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা ইশরাক
গায়ের জোরে আন্দোলন চালাচ্ছে বিএনপি: উপদেষ্টা আসিফ