কেসিসির সাবেক মেয়র খালেক ও তার স্ত্রীর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ২০ মে ২০২৫, ০৫:৩৩ পিএম

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও কেসিসির অপসারিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও তার স্ত্রী বাগেরহাট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহারের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। এ দম্পতির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণে আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন  দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনার সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২০ মে) দুদক কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম জানান, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণে আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় তিনি ও তার স্ত্রী বিদেশে পলায়ন করতে পারেন বলে দুদকের কাছে তথ্য আসে। এ কারণে গত ১৩ মে খুলনা মহানগর স্পেশাল জজ আদালতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ মে আদালত আবেদন গ্রহণ করে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। পরে আদালতের আদেশের কপি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক এবং বিশেষ পুলিশ সুপার ইমিগ্রেশনের নিকট পাঠানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেসিসির সাবেক মেয়র ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এবং তার স্ত্রী বাগেরহাট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার গত ৪ আগস্ট থেকে পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বাধা, গুলি চালানো ও হত্যার ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি নাশকতার মামলাও হয়েছে। 

এর আগে তালুকদার আব্দুল খালেক ও তার স্ত্রী হাবিবুন নাহারের পাঁচটি ব্যাংকের হিসাব, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মার্চ খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ হোসেন হায়দার এ আদেশ দেন। 

দুদক খুলনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ জানান, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক তাদের আইএফআইসি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার ব্যাংকের ব্যাংক হিসাব, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন। এর মধ্যে শুধু আইএফআইসি ব্যাংক খুলনা শাখায় ৫ কোটি টাকার হিসাব পাওয়া গেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত