বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সীমান্তে মানবিক করিডোর দেওয়ার মাধ্যমে অস্ত্রচালানের রুট হবে। করিডোরের মাধ্যমে অস্ত্র যাবে। আরাকান আর্মিরা শক্তিশালী হবে। আমাদের স্বাধীনতা হুমকিতে পড়বে। হাসিনার সময়তো এমন করিডোরের কথা আসেনি। তাহলে সংশয় আছে। তবে আমরা সন্দেহ করতে চাই না।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে খুলনা বিভাগীয় বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির সদস্য ফরম বিতরণ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নির্বাচিত জাতীয় সংসদ ছাড়া সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব না। সংবিধানের জনবিরোধী ধারা নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে। দেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়, তারা কথা বলতে চায়। ১৭ বছর যা ছিল তা গণতন্ত্র বলা যায় না, ফ্যাসিবাদের উদাহরণ হয়েছে। স্বৈরতন্ত্রের চেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সুতরাং একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক অবাধ নির্বাচন সমস্যার সমাধান করতে পারবে। গণতান্ত্রিক ধারাই সকল সংস্কার কাজ করতে পারবে। নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংসদ হবে, তারাই ইউনূস সাহেবের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেমন ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। তেমনটি এখন নেই। কেউ বলছে সংস্কার, কেউ বলছে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন। আগামী নির্বাচনে আগে আমাদের কঠিন সময় পার করতে হবে। সদস্য পদ সংগ্রহ ও নবায়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
বিএনপি নেতা বলেন, আমরা এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে চাই না। নির্বাচনের কথা বললে তারা সময় লাগবে বলছেন। কত সময় লাগবে? জুন না ডিসেম্বর পরিষ্কার করে বলুন। ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণ কাকে ক্ষমতায় বসাবে জানি না। ড. ইউনূস! আপনার চালাকি সবাই বোঝে, আপনি বোঝেন না।’
১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা স্বাধীনতা অস্বীকার করছে বলে মন্তব্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মূল চেতনাবোধ। আর জামায়াত এটাকে বলে পাকিস্তান ভাগ, এটা তাদের ঔদ্ধত্য।
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব মোজাফফর আলম, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমত উল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডেভোকেট সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, নড়াইল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকার, মেহেরপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, সদস্য সচিব অ্যাডেভোকেট কামরুল ইসলাম, মাগুরা জেলা বিএনপির আহবায়ক আলী আহমেদ, সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন, খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, বিএনপি কেন্দ্রীয় সদস্য তরিকুল ইসলাম পিঞ্জিং। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন।
প্রধান অতিথি খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন ও ৫ জন তরুণ সদস্যের ফরম পুরণের মধ্যদিয়ে খুলনা বিভাগীয় সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অপ্রত্যাশিত বিভাজন মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ৫ সিদ্ধান্ত