বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালাকে স্বাগত জানাল ব্যবসায়ীদের একাংশ

আপডেট : ২৩ মে ২০২৫, ০৪:৪১ এএম

দুবার পর্ষদে থাকলে একবার বিরতি দিয়ে নির্বাচনের বিধান, সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে সরাসরি নির্বাচন, বাণিজ্য সংগঠনের পরিচালনা পরিষদের আকার অর্ধেকে নামিয়ে এনে যে বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা জারি করা হয়েছে, সেটাকে স্বাগত জানিয়েছে এফবিসিসিআইয়ের ব্যবসায়ীদের একাংশের তৈরি করা বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদ (এফবিসিসিআই)।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে নতুন বিধিমালাকে স্বাগত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদ (এফবিসিসিআই)। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব মো. জাকির হোসেন। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন।

জানা যায়, দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)-সহ সব বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, সহসভাপতিসহ সব পদের প্রার্থীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হবে। নির্বাহী কমিটি বা পর্ষদের মেয়াদ হবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ২৪ মাস। টানা দুবার নির্বাহী কমিটি বা পর্ষদে থাকলে, তৃতীয় দফায় নির্বাচন করতে হবে এক মেয়াদে বিরতি দিয়ে। এই বিধান রেখে গত বুধবার বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন বলেন, ‘৩১ বছর ধরে ব্যবসায়ীদের চাহিদা ছিল, একটি যুগোপযোগী বিধিমালা প্রণয়ন। তাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। নতুন বিধিমালা আগামী দিনগুলোয় এফবিসিসিআইসহ দেশের সব বাণিজ্য সংগঠনের স্বকীয়তা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এর ফলে দেশের ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোয় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।’

জাকির হোসেন নয়ন আরও বলেন, ‘নতুন বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের আকার হবে ৪৬ জনের। দেশের বিভিন্ন চেম্বার থেকে ১৫ জন ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ১৫ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এ ছাড়া বিনিয়োগের পরিমাণ, কর্মসংস্থান ও বার্ষিক প্রদত্ত রাজস্ব বিবেচনায় একটি মহিলা চেম্বারসহ ছয়টি চেম্বারের প্রতিনিধি এবং একটি মহিলা অ্যাসোসিয়েশনসহ ছয়টি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এফবিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হবেন। পরিচালনা পর্ষদে নারীদের অন্তর্ভুক্তি আমাদের অনেক দিনের দাবি ছিল।’

বৈষম্যবিরোধী সংস্কার পরিষদের (এফবিসিসিআই) আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা সংস্কারে বিভিন্ন চেম্বার ও পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা এবং মতামতের জন্য বিভিন্ন সময় সভার আয়োজন করা হয়। এসব সভার মতামতের ভিত্তিতে আমাদের ১২ দফা সুপারিশ এফবিসিসিআই প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আমাদের ছয় থেকে সাতটি সুপারিশ নতুন বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সংস্কারে আমাদের অনেক দিনের দাবি ছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত