গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রতিবন্ধী নারীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার নিন্দারাবাদ এলাকার মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে সাইফুল ইসলাম, উজ্জল ও তার স্ত্রী সাদিয়া আক্তার (১৯)।
নিহত বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী রাবেয়া সাবরিন লিখন (৩৩) টঙ্গীতে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধিনে শরীরিক প্রতিবন্ধি সুরক্ষা ট্রাস্ট মৈত্রিশিল্পে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরী করত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিশ্বজিত বিশ্বাস জানান, গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীপূর্ব থানার উত্তর আরিচপুর গাজীবাড়ি পুকুর পাড় জনৈক গোলাম মোস্তফার বাড়ির ২য় তলায় ভাড়া থাকতেন বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী রাবেয়া সাবরিন লিখন। গত ১৯ মে সকালে তিনি তার বাসায় রান্না করছিলেন। এ সুযোগে তার ঘরে প্রবেশ করে অজ্ঞাতনামা পাশের ভাড়াটিয়া সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাদিয়া আক্তার। পূর্ব পরিকল্পনা অনুয়ায়ী তারা রাবেয়া সাবরিনের হাত পা মুখ বেঁধে হত্যা করে ঘরের দরজা বাইরের দিক হতে ছিটকিনি লাগিয়ে পালিয়ে যায়। রান্না পুড়ে যাওয়ার গন্ধ পেয়ে পাশ্ববর্তী ভাড়াটিয়া সাদিয়া আক্তার সাথী লিখনকে ডাকতে এসে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ পেয়ে বাড়ির মালিককে খবর দেন। বাড়ির মালিক ও পাশ্ববর্তী ভাড়াটিয়ারা ঘরের দরজা খুলে দেখেন লিখনের লাশ হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় বিছানার উপর পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ রবিবার ওই অভিযুক্ত স্বামী স্ত্রীকে টঙ্গী থেকে আটক করে। পরে তাদের গাজীপুর আদালতে পাঠানো হলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিশ্বজিত বিশ্বাস আরো বলেন, আসামি সাইফুল ইসলাম উজ্জল একটি গার্মেন্টেস এ চাকুরী করে এবং সে অন লাইন আইপিএল জুয়ায় আসক্ত। তার দুই মাসের বাড়ি ভাড়া বাকী থাকায় স্ত্রী সাদিয়া আক্তারের সাথে প্রায়সই ঝগড়া হতো। আসামি সাইফুল ইসলাম নিহত রাবেয়া সাবরিন লিখনের বোনাস পাওয়ার খবর জানতে পেরে ঐ টাকা চুরির পরিকল্পনা করে। তারই প্রেক্ষিতে গত ১৯ মে সকালে লুকিয়ে তার রুমে আসামিরা ঢুকে লিখনের মুখ পেছন দিক থেকে চেপে ধরে বিছানায় উপর করে শুইয়ে তার পিঠে উঠে মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। পরে সাইফুলের স্ত্রী লিখনের পা বেঁধে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। পরে সাইফুল নিহত লিখনের ব্যাগ থেকে ১,২৫০ টাকা, মোবাইলের বাক্স ও ২ কেজি চাল নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বাইরে থেকে রুমের দরজার ছিটকিনি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে চুরি করা টাকা তার স্ত্রী সাদিয়া আক্তারের কাছে রেখে অফিসে চলে যায়।
একীভূত হয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসছে দুর্বল ৬ ব্যাংক
টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে জিডিপি পরিসংখ্যানের বাইরে তাকাতে হবে: অভিজিৎ
শেরপুরে গহীন বনে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ প্রশাসনের, বন বিভাগের আপত্তি