বেত্রাঘাত দিয়ে পিটিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে দিলেন শিক্ষক

আপডেট : ২৮ মে ২০২৫, ০৯:৪২ পিএম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বেত দিয়ে পিটিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মারুফা খাতুন (৮) এর হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। 

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দিঘড়য়া দিয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মারুফা খাতুন তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের দিঘরিয়া দিয়ারপাড়া গ্রামের মো. মাজেদ হোসেনের মেয়ে ও
দিঘরিয়া দিয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।  

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মাসুদ রানা ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও দিঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মারুফা খাতুন জানায়, শিক্ষক মাসুদ রানা স্যার ক্লাসে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করেন তুমি তিন চার দিন স্কুলে কেনো আসোনি। তারপর স্যার আমাকে বেত দিয়ে পিটায়। এতে আমার বাম হাত ভেঙ্গে যায়। এ অবস্থায় আমি বাড়িতে চলে আসি। আমার পরিবারের লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার আমার হাত ব্যান্ডেজ করে দেন।  

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুদ রানা এর আগেও একাধিক ছাত্রছাত্রীদের এ রকম বেধরক পিটিয়েছেন। এর কোন বিচার হয় নাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, আমি মারুফা খাতুনকে বেত দিয়ে মারিনি। আমি শুধু স্কুলে না আসার কারণ জানতে চেয়েছি। আমাকে ফাঁসানোর জন্য তারা মিথ্যা বলছে। তার হাত কিভাবে ভেঙ্গেছে তা আমি জানিনা।
 
এ বিষয়ে দিঘরিয়া দিয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ূন কবির জানান, বুধবার সকালে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি। এরপর ওই শিক্ষক মাসুদ রানার বিষয়টি আমি আমাদের স্যারকে জানিয়েছি।  

তিনি আরও বলেন, শিক্ষক মাসুদ রানা ছুটিতে থাকায় তাকে ফোন করে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি জানায়, আগামীকাল সকালে স্কুলে এসে এ বিষয়ে কথা বলবেন। এই বলে ফোন কেটে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আপেল মাহমুদ বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সবুজ কান্তিকে ওই বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছি। তিনি ঘুরে এসে আমার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করলে আমি ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নূরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুনুর রশিদ জানান, ওই বিদ্যালয়ে আমার শিক্ষা অফিসার (এ টি ও) সাহেব গিয়েছিল। উনি রিপোর্ট দিলে আমি দু-একদিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত