ট্রাম্প প্রশাসন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইলন মাস্কের

আপডেট : ২৯ মে ২০২৫, ০৯:০৪ এএম

বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর মালিক ইলন মাস্ক ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক তার পদত্যাগের কথা জানিয়ে বলেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের “ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি” (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ট্রাম্পের নতুন বাজেট বিল নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশের পরই মাস্কের পদত্যাগের বিষয়টি সামনে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বলেছেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করছেন। সরকারি বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে মাস্ক কয়েক মাস ধরে সরকারের ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে কাজ করে আসছিলেন।

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে এক্স-এ দেওয়া পোস্টে মাস্ক লিখেছেন, ‘বিশেষ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমার সময় পূর্ণ হওয়ায় আমি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ডিওজিই মিশন ভবিষ্যতেও শক্তিশালী হবে এবং এটি সরকারে স্থায়ী একটি প্রথায় পরিণত হবে।’ ডিওজিই’র শীর্ষ পদে দায়িত্বে ছিলেন ইলন মাস্ক।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের এক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে মাস্কের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আল জাজিরা জানায়, মাস্ক চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বাজেট থেকে অন্তত ১ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ কমানো। তবে ডিওজিই’র ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র ১৭৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে, যা মাথাপিছু প্রায় ১০৮৯ ডলার।

ট্রাম্প প্রশাসনে মাস্কের নিয়োগ ছিল ১৩০ দিনের জন্য, যা আগামী ৩০ মে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রশাসন জানিয়েছে, ডিওজিই’র কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং সরকারকে আরও ছোট ও দক্ষ করার প্রচেষ্টা চলবে।

এই পদত্যাগ এমন সময় সামনে এসেছে যখন মাস্ক ট্রাম্পের ‘বিগ, বিউটিফুল বিল’ নামক নতুন বাজেট বিল নিয়ে প্রকাশ্যে তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ওই বিলের মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো এবং খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের জন্য কাজের শর্ত সংযোজন।

মাস্ক বলেন, ‘এই খরচবহুল বিল দেখে আমি হতাশ। এটি ঘাটতি কমানোর বদলে বরং বাড়িয়েছে, যা ডিওজিই দলের কাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

বিলটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু অগ্রাধিকার প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ রয়েছে, যেমন মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ এবং ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের বাজেট বৃদ্ধি। এটি সম্প্রতি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে এবং এখন সিনেটে আলোচনার অপেক্ষায়।

কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, বিলটি পাস হলে ২০৩৪ সালের মধ্যে মার্কিন বাজেট ঘাটতি ৩.৯ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়বে, যা ডিওজিই’র সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে।

মাস্ক আরও বলেন, ‘একটি বিল বড় হতে পারে বা সুন্দর হতে পারে, কিন্তু আমার মতে দুইটি একসাথে হওয়া কঠিন। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত