বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হওয়া গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া। নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতায় জোয়ারের পানি প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি দুর্যোগে রূপ নিয়েছে। জোয়ারের তোড়ে উপকূলের বেশ কয়েকটি বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। ডুবে গেছে ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল। কক্সবাজারের মহেশখালীতে জোয়ারের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের।
গতকাল বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় থাকা গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার কাছে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এরপর এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাগরে সৃষ্ট হওয়া লঘুচাপটি বড়জোর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে আমরা পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। বাস্তবিক অর্থেও তাই ঘটেছে।
কিন্তু এর প্রভাবে উপকূলে বাড়তি জোয়ার বেশি হয়েছে কেন? এই প্রশ্নের জবাবে বজলুর রশিদ বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি জোয়ার থাকবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, গতকালের নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে। মনে হচ্ছে নিম্নচাপটি সাগর থেকে আসার সময় প্রচুর জলীয়বাষ্প নিয়ে আসছে। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নিম্নচাপটির জলীয়বাষ্পের প্রভাবে সারা দেশেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যদি মৌসুমি বায়ু প্রবেশের আগে এই নিম্নচাপটি সৃষ্টি হতো তাহলে একটি বড় ঘূর্ণিঝড় হতো। শুধু মৌসুমি বায়ু আগাম প্রবেশ করায় বেঁচে গেল উপকূল। তবে এই বাড়তি বৃষ্টি ও উপকূলে জোয়ারের প্রভাবে কৃষির ভালোই ক্ষয়-ক্ষতি হবে।
বৃষ্টির বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোরকাস্টিং কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, নিম্নচাপটির প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টি হবে তা আমরা আগেই বলেছিলাম।
তিনি বলেন, নিম্নচাপটি গতকাল বিকেলে সাতক্ষীরার রায়মঙ্গল নদীর মোহনা দিয়ে স্থল নিম্নচাপ আকারে প্রবেশ করে যশোর কুষ্টিয়া হয়ে ভারতের মুর্শিদাবাদের দিকে চলে যাওয়ার কথা। আর এর প্রভাবে সারা দেশে ভারী বর্ষণ শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
একটি নিম্নচাপের পর আবারও জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হতে সময় লাগে। সে হিসেবে জুন মাসের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন সাউথ এশিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. মোহন কুমার দাশ। তিনি বলেন, ‘যেহেতু এখন একটা সিস্টেম অতিবাহিত হলো। তাই সাথে সাথে মৌসুম সক্রিয় হবে না। সে হিসেবে হয়তো মধ্য জুন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত নাও হতে পারে।’
আবহাওয়ার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের কাছের দ্বীপ ও চর ২ থেকে ৪ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। তখন ঝড়ো হাওয়াও থাকতে পারে।
দেশের ছয় জেলায় বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর মধ্যে আছে ফেনী, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও নেত্রকোনা। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব এলাকার নদ-নদীগুলো বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, ধলাই, খোয়াই ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এসব নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ সময় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, আগামী দুই দিন চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী ও ফেনী নদীর পানি বাড়তে পারে। এই সময় মুহুরী নদীর পানি সমতল বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ সময় ফেনী জেলার মুহুরী নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দুদিন পর এই নদীর পানি কমে আসতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। এ ছাড়া আগামী দুই দিন পর্যন্ত বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতায় জোয়ার দেখা যেতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বরগুনায় ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীতে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে জোয়ারের পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে করে বরগুনা পৌরশহরের নিম্নাঞ্চল ও উপকূলীয় চরাঞ্চলের বহু নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে উঁচু জোয়ারের চাপে বড়ইতলা ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে ডুবে যাওয়ায় ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে যাত্রী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগে পড়ছে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা।
অন্যদিকে বৈরি আবহাওয়া ও গতকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপসহ নতুন করে জেগে ওঠা চরগুলো প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া সাগর উত্তাল থাকায় হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌযোগাযোগ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমদ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ও জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রেডক্রিসেন্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উত্তাল সাগর, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, মহেশখালীতে যুবকের মৃত্যু
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। জোয়ার পানি স্বাভাবিক চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে মহেশখালীতে পানিতে ডুবে এক মৃগী রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের সঙ্গে মহেশখালীর নৌচলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের সমুদ্রসৈকতে একের পর এক বিশাল বিশাল ঢেউ আঘাত হানছে ঝাউবাগানে ও জিওব্যাগে। ফলে সাগরপাড়ার ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে উপকূলে উঠিয়ে রাখা হয়েছে জেড স্কি ও কিটকট।
কুতুবদিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৬ গ্রাম প্লাবিত
কক্সবাজারের দ্বীপ কুতুবদিয়ায় ঘূর্ণিঝড় শক্তির প্রভাবে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে ৫ থেকে ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে, মাছের ঘের, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এলটন চাকমা বলেন, যেসব এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙা রয়েছে। রোদ থাকলে কয়েকদিন কাজ শুরু হবে। পানি প্রবেশের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
কুমিল্লায় ফের বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে ভারী বর্ষণ
কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল পলাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ২৮ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত দেশের বড় একটি অংশে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকবে।
রাঙ্গাবালীতে কয়েক গ্রাম প্লাবিত
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও ভারী বৃষ্টি হওয়ার কারণে কয়েকটি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
উপজেলা সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে রাঙ্গাবালীর মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে সব মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পরবর্তীতে জানতে পারব।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব অজিৎ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আজকে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এতে রাঙ্গাবালীর কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। আর কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা পরে জানা যাবে।
বৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় ঢাকায় দিনভর ভোগান্তি
জ্যৈষ্ঠের বৃষ্টি একদিকে যেমন তাপপ্রবাহের ক্লান্তি থেকে প্রশান্তি এনে দিয়েছে, অন্যদিকে নগর জীবনে যোগ হয়েছে বাড়তি ভোগান্তি। টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে ধীরগতিতে চলে যানবাহন। কোনো কোনো সড়কে দেখা দেয় যানজট, আবার কোনো কোনো এলাকায় গণপরিবহনের সংকটে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে।
আজিমপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই নগর জীবনে যোগ হয় বাড়তি ভোগান্তি। সড়কে গণপরিবহন কম থাকায় বাড়তি ভাড়ায় রিকশা, সিএনজি অটোরিকশায় গন্তব্যে পৌঁছেছেন অনেকেই।
অফিস শেষে ফেরার পথে আরও বেশি ভোগান্তি দেখা দেয়। বিকেল ৪টার পর নামে মুষলধারে বৃষ্টি। এতে অলিগলিতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ির গতি প্রায় থেমে যায়। আসাদ গেট, বিজয়সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট দেখা যায়। যানজটে আটকে অনেককে বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা পারভেজ হাসান নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টির সঙ্গে বাতাস থাকায় ছাতা নিয়ে হেঁটেও যাওয়ারও জো ছিল না। রাস্তায় পানি, বাসও পাচ্ছিলাম না। তাই বাধ্য হয়ে ডাবল ভাড়া দিয়ে সিএনজি করে অফিসে যেতে হয়েছে। আসার সময় আবার যানজট।
হাসিনা খাতুন নামের এক অফিস সহায়ক জানান, যেখানে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে অফিসে চলে যাই, বৃষ্টির কারণে সেটা ২ ঘণ্টা লাগল। আসার সময়ও বৃষ্টি। বাধ্য হয়ে ভিজতে হয়েছে, যানজটে বসে থাকতে হয়েছে। সিএনজি বা রিকশার যে ভাড়া, সেটি দিয়ে যাতায়াত করার সামর্থ্য সবার নেই।
ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি যানজট ছিল। এ প্রসঙ্গে তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) অনীশ কীর্ত্তনীয়া গণমাধ্যমকে বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ির গতি কমে যায়। বিশেষ করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলপ্লাজায় গাড়ি চাপ বেড়ে যাওয়ায় এর চাপ পড়েছে নিচেও। এতে করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ সড়কগুলোতেও যানজট দেখা দেয়।
এদিকে, আজ শুক্রবারও ঢাকাসহ সারা দেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারা দেশে বৃষ্টি হচ্ছে। আজ শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার থেকে আকাশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দেশ রূপান্তরের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গাবালী, বরগুনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী প্রতিনিধি।
