ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়লেন ইলন মাস্ক—পেছনে কী কারণ?

আপডেট : ৩০ মে ২০২৫, ০৯:৩২ এএম

হোয়াইট হাউজের ‘সরকারি দক্ষতা বিভাগ’ থেকে বিদায় নিয়েছেন ইলন মাস্ক। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে তিনি এই বিভাগটির নেতৃত্বে ছিলেন। মাস্কের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন তিনি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বাজেট পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেটে কর ছাড় এবং প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর যে প্রস্তাব রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাস্ক। তার মতে, এসব পরিকল্পনা ফেডারেল ঘাটতি বাড়াবে এবং ‘ডিওজিই’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—অপচয় কমানো ও দক্ষতা বৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তবে মতবিরোধ থেকেই যে মাস্ক দায়িত্ব ছেড়েছেন, এমনটি বলা যাচ্ছে না। কারণ এই পদে তার দায়িত্ব ছিল নির্ধারিত ১৩০ দিনের জন্য, যা মে মাসেই শেষ হয়ে যায়।

বিদায়বেলায় এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে মাস্ক লেখেন, ‘বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে চাই অপচয় কমানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য। ডিওজিইর মিশন সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হবে, কারণ এটি ধীরে ধীরে সরকারের সর্বত্র একটি জীবনধারা হয়ে উঠবে।’

ডিওজিই বা ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি’ মূলত মাস্কের নেতৃত্বে ফেডারেল ব্যয় কমানোর একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে কাজ শুরু করেছিল। শুরুতে মাস্ক ঘোষণা দেন, ফেডারেল বাজেট থেকে দুই ট্রিলিয়ন ডলার কমানো হবে। পরে তা এক ট্রিলিয়নে নামিয়ে শেষে ১৫০ বিলিয়নে সীমিত করা হয়।

এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার ফেডারেল কর্মচারীকে চাকরি হারাতে হয়েছে অথবা স্বেচ্ছায় অবসর নিতে হয়েছে। যদিও এই ছাঁটাই নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল, বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচির কর্মীরা বাদ পড়ায়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের অনেককেই পুনর্বহাল করা হয়।

ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে মাস্ক

সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় মাস্ক তার নিজ কোম্পানি টেসলা থেকে দূরে থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে টেসলার বিক্রি ১৩ শতাংশ কমে যায়—কোম্পানির ইতিহাসে যা সবচেয়ে বড় পতন। এক পর্যায়ে টেসলার শেয়ারমূল্য ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়, যা পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে বর্তমানে ১০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে।

এদিকে মাস্কের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং তার সমালোচনার জেরে অ্যাক্টিভিস্টদের পক্ষ থেকে টেসলা বয়কটের ডাক দেওয়া হয়, বিক্ষোভও হয় বিভিন্ন জায়গায়। এমনকি গাড়ি ও চার্জিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি দেখে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এসব ভাঙচুরকে ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যা দেন।

মাস্ক জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছর তিনি তার ব্যবসা, বিশেষ করে টেসলার ওপর আরও মনোযোগী হবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য যে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের রাজনৈতিক অনুদান তিনি দেওয়ার কথা বলেছিলেন, সেটিও কমিয়ে আনবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত