‘আমি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। জন্ম থেকেই দুটি হাত নেই। সমাজের বোঝা হতে চাইনি। যেভাবেই হোক চেয়েছি লেখাপড়া শিখে স্বাবলম্বী হতে।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা মো. আলী। বড়হাতিয়া ইউনিয়নের দূর্গম হরিদাঘোনা এলাকার আলী। কারো সহায়তা ছাড়া পায়ে লিখে এমবিএ পরীক্ষা শেষ করলেন সম্প্রতি। এখন তার লক্ষ্য একটি চাকরি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন।
আলী জানান, প্রতিবন্ধী সন্তান হওয়ায় তার মাকে কটু কথা শুনতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মা লেখাপড়া জানেন না। তবুও চেয়েছিলেন আমি যেন লেখাপড়াটা করি। বলতেন, তোর হাত নেই তো কি হয়েছে পা তো আছে। আমি পা দিয়ে লেখার অনুশীলন শুরু করি। দুই বছরের চেষ্টায় বাংলা ও ইংরেজি অক্ষর লেখা রপ্ত করি। সাতকানিয়া সরকারি কলেজ থেকে বিবিএ (ব্যবস্থাপনা) এবং চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে এমবিএ করেছি। সরকারিভাবে প্রতিবন্ধী ভাতা ও চিত্তরঞ্জন মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছি।’
আলীর মা সামশুন নাহার বলেন, ছেলেটি হাত ছাড়া জন্ম নেয়ার পর খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। প্রতিবেশীরা মনে করত তাকে দিয়ে কিছুই হবে না। হাত না থাকায় নেই কোন প্রাথমিক স্কুল তাকে ভর্তি নিচ্ছিল না। পরে উত্তর বড়হাতিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সহযোগিতায় তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক এডিসন কান্তি দে বলেন, কারো সহযোগিতা ছাড়াই পায়ে লিখেই আলী বিবিএ ও এমবিএ পরীক্ষা শেষ করে। প্রতিবন্ধী হলেও তার মনোবল শক্ত ছিল।’
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইনামুল হাছান দেশ রূপান্তরকে জানান, আলী প্রতিবন্ধী হলেও তার প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারিভাবে চাকরির যদি কোনো সুযোগ থাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’
