গভীর নিম্নচাপের কারণে ঝড়-বৃষ্টির ফলে দেশের অনেক এলাকা বর্তমানে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ, টানা ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে কমপক্ষে ৫০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্ঘটনা এড়াতেই মূলত বন্ধ রাখা হয়েছে সংযোগ। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল টাওয়ারগুলোর ব্যাকআপ শক্তিও শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক। এতে প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, জরুরি প্রয়োজনে ডাক্তার ও হাসপাতালে যোগাযোগসহ নিত্য-প্রয়োজনীয় অনেক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, ঝড়-বৃষ্টিতে চাটখিল উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যয় ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে।
হাতিয়ার বাসিন্দা ইরাক হোসেন বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ নেই। এখন মোবাইলেও নেটওয়ার্ক নাই। কোনো আত্মীয়ের খোঁজ নিতে পারতেছি না। বাচ্চারা ভয়ে আছে, কেউ জানে না সামনে কী হবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধার।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য (বিতরণ) আব্দুর রহিম মল্লিক জানান, দুই দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে তাদের কমপক্ষে ৫০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে সন্ধ্যার মধ্যে একটা বড় অংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোন টাওয়ার বিদ্যুতের অভাবে অচল হয়ে পড়েছিল, সেগুলো সচল হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওই লাইনগুলো মেরামতের কাজ চলছে।
মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত তিন অপারেটরের অচল হওয়া সাইটের সংখ্যা (টাওয়ার) প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৪ হাজার ৪৭৪টি, বাংলালিংকের ৩ হাজার ২০টি এবং রবির ৫ হাজার ৫০০টি টাওয়ার রয়েছে। তবে গতকাল সন্ধ্যার মধ্যে এসব টাওয়ার ৮০ শতাংশ সচল হয়েছে।
জুবায়েরকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয় বন্ধুরা, সাজায় নৌকাডুবির নাটক
মির্জাপুরে প্রবাসীর মাইক্রোবাসে ডাকাতি, টাকা ও মালালাল লুট