ফারুককে সরিয়ে দেওয়ার কারণ জানালেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

আপডেট : ৩১ মে ২০২৫, ০৯:৫১ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) সভাপতি পদে নাটকীয় পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর মতে, ফারুক আহমেদকে অপসারণ করা হয়েছে শাস্তি হিসেবে নয়, বরং বোর্ডের অব্যবস্থা, বিপিএলের অনিয়ম এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিবেচনায়।

আজ শনিবার জাতীয় হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা জানান।

এসময় তিনি বলেন, ‘এটা কোনো শাস্তি নয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিসিবির যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ হয়নি। পাকিস্তানে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের পর থেকে পারফরম্যান্সে অবনতি হয়েছে। আমরা যা করেছি, সেটা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।’

ফারুক আহমেদকে এনএসসির মনোনয়নে বোর্ডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৯ মাস আগে। সেই মনোনয়নই এবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন,‘ক্রিকেট একটা টিম গেম, কিন্তু বিসিবিতে কোনো টিম ছিল না। পরিচালকেরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন না। বিপিএলে রাজশাহীর টিম হোটেল ও খেলোয়াড়দের বেতন ইস্যু পর্যন্ত সরকারের নজরে এসেছে। এটা অত্যন্ত বিব্রতকর। প্রধানমন্ত্রী ফাইনালে আসার কথা থাকলেও আনতে পারিনি। এত অনিয়ম, অব্যবস্থা—আপনারাই তো রিপোর্ট করেছেন।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি দুর্নীতির নয়, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও কর্মদক্ষতার বিষয়, ‘ফারুক ভাইকে দুর্নীতির কারণে নয়, পারফরম্যান্সের কারণেই সরানো হয়েছে। খেলোয়াড় যদি রেগুলার ব্যর্থ হয়, তাকে কি নির্বাচকরা দলে রাখে?’

তবে বিসিবির পরিচালকদের মধ্যে যে আটজন ফারুকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে সাতজনই নাজমুল হাসান পাপনের সময়কার। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে উপদেষ্টা বলেন, ‘কে বলল সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, ফ্যাক্টটা কি সেটা বিবেচ্য। প্রশাসনিকভাবে কাজ হয়নি, পারফরম্যান্স তলানিতে। আমার ফোকাস ক্রিকেট, কোনো ব্যক্তি নয়।’

অন্যদিকে, অপসারণকে কেন্দ্র করে যে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও খোলামেলা বক্তব্য দেন উপদেষ্টা, ‘ফারুক ভাই যদি নিজে থেকে সরে যেতেন, তাহলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দরকার হতো না। ক্রীড়া জগতের কোনো কিছু গোপন থাকে না, আপনাদের কাছেই চলে যায়। জোর করে কিছু করা হয়নি।’

বিসিবির নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে নিয়ে আশাবাদী উপদেষ্টা। বলেন,‘তিনি আইসিসিতে কাজ করতেন, সেখানে যে সম্মানী পেতেন, সেটা আমরা দিতে পারি না। কিন্তু দেশের জন্য কাজ করতে চান বলেই রাজি হয়েছেন।’

এছাড়া হকি ফেডারেশনসহ অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থাগুলোকেও নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে—ফারুক আহমেদকে অপসারণ একটি বার্তা, কেবল বিসিবির জন্য নয়, বরং গোটা ক্রীড়া প্রশাসনের জন্যই। ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়ে দিলেন, উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা ছাড়া কোনো ছাড় নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত