স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেন আজ সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সরাসরি আলোচনায় বসছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল রাশিয়ার কাছে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ পেশ করবে বলে জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ওই রোডম্যাপের একটি খসড়া নথি পর্যালোচনা করেছে।
রোডম্যাপে প্রস্তাব করা হয়েছে, উভয় পক্ষ সম্মত হলে ৩০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে। একইসঙ্গে, বন্দিবিনিময় এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে থাকা ইউক্রেনীয় শিশুদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আলোচনার পরবর্তী ধাপে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে বড় সশস্ত্র সংঘাত অবসানে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা। তারা এমন একটি কাঠামো দাঁড় করাতে চায়, যা মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে ইস্তাম্বুল বৈঠকের জন্য রাশিয়ার কাছে প্রস্তাবিত পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। রোডম্যাপে পূর্বের প্রস্তাবগুলোই নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানায় রয়টার্স।
নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শান্তি চুক্তি সই হলে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না। একইসঙ্গে, রাশিয়া যে ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলো বর্তমানে দখলে রেখেছে সেগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে রাশিয়ার সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইউক্রেনকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতেও বলা হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, রোডম্যাপে যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান ফ্রন্টলাইন নিয়ে সমঝোতার বিষয়টিকে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছে। তবে নথিতে উল্লিখিত বিষয়গুলো রাশিয়ার সম্প্রতিক দাবিগুলোর সঙ্গে অনেকটাই অমিল বলে রয়টার্স মন্তব্য করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনকে একত্রে বসে শান্তির পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ইস্তাম্বুলে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে কিয়েভ জানায়, তারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং রাশিয়ার কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপির অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব থাকবে। তবে এখন পর্যন্ত ইউক্রেন সে ধরনের কোনো স্মারকলিপি হাতে পায়নি।
তারপরও গতকাল রবিবার প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইউক্রেন প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে। ইস্তাম্বুলের এই বৈঠককে তাই শান্তির পথে সম্ভাব্য একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠক বিকালে
শেখ হাসিনার দেশে আসার আর কোনো সুযোগ নেই: মোস্তফা জামান 