উৎসবের রঙে দ্বিগুণ ভাড়ার অস্বস্তি

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৫, ০৯:২৫ এএম

ঈদযাত্রা মানেই পরিবহনসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া। এবারের ঈদুল আজহার যাত্রাতেও পাওয়া গেল একই অভিযোগ। বেশিরভাগ পরিবহনে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে নির্ধারিতের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র মিলেছে।

মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, আগের দিনগুলোর তুলনায় যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। তবে, উত্তরবঙ্গগামী প্রায় সব পরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেলা তিনটার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে মো. নাইম নামে এক যাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে বগুড়ার ভাড়া ১ হাজার টাকা। এখন ২ হাজার টাকার বেশি চাইছে পরিবহনগুলো। ঈদ এলেই পরিবহন সিন্ডিকেট ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। এর কোনো তদারকি নেই। ঢাকা থেকে নওগাঁগামী সায়েম নামের এক যাত্রী বলেন, আগে এই রুটে নন এসি ভাড়া ৭০০ টাকায় যাওয়া যেত। হঠাৎ করে এখন ভাড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা চাইছে। তাও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। তবে, যাত্রীদের এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবহনসংশ্লিষ্টদের তরফে কোনো সদুত্তর মেলেনি।   

পঞ্চাশোর্ধ মোস্তফা মিয়া যাত্রাবাড়ীতে পদ্মা সেতুমুখী সড়কের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে। কখনো কখনো এদিক-ওদিক ইতিউতি করছেন। আলাপকালে তিনি বলেন, যাবেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গ্রামের বাড়িতে। ঢাকায় রংমিস্ত্রির কাজ করেন।  পিরোজপুরগামী বিভিন্ন পরিবহনে ৬০০ টাকার ভাড়া হাঁকছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘ছোট্ট কাজ কইরা খাই। ২০০/ ৩০০ টাকা বাড়তি ভাড়া আমার কাছে অনেক কিছু। তারপরও ঈদের মধ্যে বাড়িতে যাইতে হবে।’ গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় দেখা যায়, মোস্তফার মতো অসংখ্য মানুষ ব্যাগ, লাগেজ, পোটলা নিয়ে বাসে ওঠার অপেক্ষায়। তবে, বাড়তি ভাড়া, গরম, কাদামাটি মাড়িয়ে যারা বাসে উঠছেন তাদের সবার মুখে ঈদের খুশির ঝিলিক, উৎসবের আমেজ। গন্তব্যে পৌঁছাতে সবারই তাড়া। এবার সরকার ঘোষিত ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে আজ থেকে। ১০ দিনের ছুটি থাকবে আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত। ঘরমুখী মানুষেরা লম্বা ছুটির প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন। সঙ্গত কারণে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে গতকাল থেকে ভিড় বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ছুটির প্রথম দিনে ঘরমুখী মানুষের চাপ আরও বাড়বে বলে জানান পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।   

যাত্রাবাড়ী এলাকায় কথা হয়, বরিশালগামী ‘সিয়াম এক্সপ্রেস’ পরিবহনের কন্ডাক্টর মোহনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এমনিতে ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও তারা এখন ৭০০ টাকা চাইছেন। অনেকে এই দামেই টিকিট কিনে বাসে উঠছেন। তিনি বলেন, বরিশাল আসতে  যেতে প্রতিটি ট্রিপে টোল, জ্বালানিসহ খরচ আছে ১২ হাজার টাকা। ফিরতি পথে যাত্রী নেই। তাই একটু বেশি নিচ্ছেন তারা। তবে, যাত্রীদের অভিযোগ ঈদ এলেই বাসসংশ্লিষ্টরা ভাড়া বেশি নেবেন, এটি এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠেছে। সরকার বা পরিবহনসংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হুমকি ধমকিতেও কোনো কাজ হয়না। ষাটোর্ধ্ব জুলহাস উদ্দিন যাবেন যশোরে। ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে পরিবহনে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পেরেছেন ৭০০ টাকা ভাড়ার কমে হবে না। তিনি বলেন, ঈদের আগে সরকার বলে ভাড়া বাড়বে না। কিন্তু বাসের ভাড়া ঠিকই বাড়ে।

বাসযাত্রীদের কথার সত্যতা পাওয়া গেল পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে। যাত্রাবাড়ীতে পদ্মা সেতুমুখী অন্তত ৮টি কাউন্টারে যোগাযোগ করে জানা গেছে, বরিশাল, ফরিদপুর, ভাঙ্গা, শরীয়তপুর, নড়াইল, খুলনা, যশোর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া রাখছেন তারা। অজুহাত একটাই ফিরতি পথে বাসগুলো খালি আসছে। কাচপুরের রঘুনাথপুর এলাকায় একটি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন স্ত্রীসহ যাবেন নড়াইলে। আলাপকালে তিনি বলেন, ৫০০ টাকা করে টিকিটের দাম রাখলেও একই দূরত্বে বেশকিছু পরিবহনে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া চেয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে, খুলনাগামী পরিবহনগুলোতে। এমনিতে নন এসি পরিবহনে ৬০০ টাকা ভাড়া হলেও গতকাল ৮০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকতে দেখা গেছে পরিবহনসংশ্লিষ্টদের। দুপুর দেড়টার দিকে সায়েদাবাদ এলাকা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘জোনাকি পরিবহণের’ কাউন্টারে এক যাত্রীর সঙ্গে বাগবিতন্ডা হচ্ছে কাউন্টারসংশ্লিষ্টদের। যাত্রী মোর্শেদ আলম বলেন, নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করি। আজ (গতকাল) ৫৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে। ৫০ টাকা বেশি নিয়েছে। কিন্তু কেন বেশি নিয়েছে এর কোনো জবাব নেই।

গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী ও ধোলাইপাড় এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে বের হতে হানিফ ফ্লাইওভার, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী এলাকায় থেমে থেমে যানজট রয়েছে। বাড়ি ফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। হাজার হাজার মানুষ গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায়। পরিবহন বা লোকাল বাস যে যেভাবে পারছেন গন্তব্যে ছুটছেন। এদিকে পরিবহনগুলোতে লোকাল সার্ভিসগুলোতে ইচ্ছেমতো যাত্রী উঠাতে দেখা গেছে। আসনে যাত্রী পরিপূর্ণ হওয়ার পর অনেকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও পরিবহনগুলোয় পথে পথে যাত্রী উঠাতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবার ঈদে উত্তরবঙ্গের রুটে এসি ও নন-এসি বাসে ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে উত্তরবঙ্গে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় হচ্ছে। সড়কে চাঁদা কমলেও ভাড়া না কমায় যাত্রীরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। সরকার অতিরিক্ত ভাড়া বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা বললেও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।’ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও শ্যামলী এন আর পরিবহনের স্বত্বাধিকারী শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বলেন, আমাদের পরিবহনে নন এসি বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ায় আমরা নিচ্ছি। তাছাড়া এসি বাসের গাড়িগুলো একেক কোম্পানির গাড়ি একেক রকম দামের। এগুলো সব বিলাসবহুল গাড়ি। যার জন্য এই ভাড়া মালিক সমিতিও নির্ধারণ করতে পারে না। আর বিআরটিএ এখনো এই ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়নি।

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই কর্মব্যস্ত শহর ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বেড়েছে। গতকাল বুধবার ভোর থেকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া পদ্মা সেতু এলাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা যায়। পর্যাপ্ত টোল বুথের ব্যবস্থা থাকায় দ্রুত টোল দিয়ে নির্বিঘ্নে পারাপার হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। তবে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের গণপরিবহনগুলো থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাদারীপুরের নাওডোবার বাসিন্দা আহম্মেদ আলী বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে যেতে ৩০/৫০ টাকা ভাড়া নেওয়ার কথা। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে ২০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। এগুলো জুলুম। আরেক ভুক্তভোগী রেজাউল ইসলাম বলেন, ঢাকার ধোলাইখাল থেকে ভুলে লৌহজংয়ের বাসে উঠে পড়েছি। মাওয়া এসে ইলিশ পরিবহনে ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে পদ্মা সেতু পার হলাম। আসমা নামে এক নারী জানান, ৪ বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে পদ্মা সেতু পার হবো। ‘স্বাধীন’ বাসের হেল্পার ৩০০ টাকা ভাড়া নিল।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা গণপরিবহন, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলযোগে ছুটছেন। সকাল থেকে থেমে থেমে যানবাহন আসা শুরু করেছে। তবে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছিল না মাওয়া টোল প্লাজা এলাকায়। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করেই পারাপার হচ্ছে ঈদযাত্রীরা। যানজটের কোনো ভোগান্তি না থাকায় উৎসবের রঙয়ে স্বস্তির হাসি ফুটেছে মানুষের চোখেমুখে। তবে গণপরিবহন ও যাত্রীবাহী বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ছিল সুস্পষ্ট। এদিকে, অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনারোধে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি সিসিটিভি স্থাপন করে রাখা হচ্ছে বিশেষ নজরদারি। সে সঙ্গে সেনাবাহিনী, র‌্যাব-১০, হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, পদ্মা সেতু উত্তর থানা পুলিশর নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোলপ্লাজা এলাকায় ৭টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সে সঙ্গে বরাবরের মতো মোটরসাইকেলের জন্য এবারও রয়েছে আলাদা টোল আদায়ের ব্যবস্থা। পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে টোল ম্যানেজার আহাম্মেদুল হক জানান, সেতুতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় টোল আদায় বেড়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৩৪ হাজার ৫০ টাকা। এ সময় মাওয়া প্রান্ত হয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছে ১৩ হাজার ৬৯২টি যানবাহন। এ ছাড়া উভয় প্রান্তে চলাচল করেছে ২৫ হাজার ২শ ৭৪টি যানবাহন। পদ্মা সেতু উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নির্বিঘ্নে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। তবে আগামীকাল (আজ) থেকে যানবাহনের চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, সড়ক পথে ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ভোরে যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ও গাড়ি বিকল হওয়ায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। গণপরিবহন না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাকে করে গন্তব্য পৌঁছাতে দেখা গেছে যাত্রীদের। অনেকেই গরুবাহী খোলা ট্রাকে বাড়ি ফিরছেন। এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। উত্তরের ঘরমুখো মানুষ বলছে, ৩০০ টাকার ভাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যমুনা সেতু পূর্ব থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজট নেই। মহাসড়কে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৩৩ হাজার ৫৬৪টি যানবাহন পারাপারের  বিপরীতে দুই কোটি ৮৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। বুধবার যমুনা সেতু (বাসেক) সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বাসেক) যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ হাজার ৫৬৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১৭ হাজার ৬৫৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৪৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৯০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৪১ লাখ ৮১ হাজার ৫০ টাকা। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আদিবুল ইসলাম জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে মহাসড়কে ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

কমলাপুরে ভিড় বেড়েছে : গতকাল ঈদযাত্রার পঞ্চম দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। যাত্রীদের জন্য এবার স্পেশাল ট্রেনগুলোতে শুরু থেকে মনিটারিং করা হয়। বেশিরভাগ ট্রেন সময় মতো ছেড়ে যায়। গতকাল সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন মিলিয়ে ৩১টি ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে ৪ থেকে ৫টি ট্রেন কয়েক মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। তবে অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে যাওয়ায় সিটে যাওয়া যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের যাত্রী মো. রাকিব বলেন, এক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো ট্রেনেরে সিডিউলের জন্য। কিন্তু এবার কোনো অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না ট্রেনের জন্য। এদিকে দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে এসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (অব.) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের এবার রেলের টিকিটে কোনো কালোবাজারি হয়নি। অভিযোগ যে আসছেনা, এমন নয়। তিনি আরও বলেন, রেলপথের যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারেন সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে। রেলযাত্রায় কেউ যেন ছাদে ভ্রমণ করতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে।

সদরঘাটে উপচেপড়া ভিড় : গতকাল দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায়। বাড়তি ভাড়ার উৎপাত ঠেকাতে সদরঘাট এলাকায় অভিযান চালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। লঞ্চসংশ্লিষ্টরা জানান, কেবিনের চাহিদা থাকলেও সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়েছে। তবে কেবিনের চেয়ে বেশি ভিড় লঞ্চের ডেকে।  সংশ্লিষ্টরা জানান, গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন রুটে ৪৪টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। রাতে আরও প্রায় ৪০টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সদরঘাট নৌটার্মিনালের যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন  সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার বিকেল ৫টার পর থেকেই ভিড় বেড়েছে সদরঘাটে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত