ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকা, ব্যস্ত টার্মিনাল ও পশুর হাট

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৫, ০১:৩৫ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে পড়ছে। সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় শহরের রাস্তাঘাটে যানবাহনের চাপ কমে গেছে, কোথাও কোথাও বিরাজ করছে নিরবতা। তবে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, আর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এখনো রয়েছে ঘরমুখো মানুষের আনাগোনা। শেষ মুহূর্তে যারা বাড়ি ফিরছেন, তাঁদের ভিড়ে এসব জায়গা এখনো ব্যস্ত।

সরকার ঈদ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার থেকে আগামী শনিবার (১৪ জুন) পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ঈদের মূল তিন দিনের ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি ও নির্বাহী আদেশে ঘোষিত অতিরিক্ত ছুটি। তবে ছুটির ভারসাম্য রক্ষায় ১৭ মে ও ২৪ মে, দুটি শনিবার অফিস খোলা রাখা হয়।

দীর্ঘ ছুটির সুযোগে রাজধানীবাসীর বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়েছেন। ফলে দিনের বেলা সাধারণত ব্যস্ত থাকা সড়কগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। যানজটহীন রাস্তায় স্বস্তি পাচ্ছেন নগরবাসীর একটি অংশ, বিশেষ করে অফিস না থাকা সরকারি-বেসরকারি কর্মীরা।

তবে শহর পুরোপুরি ফাঁকা নয়। ছুটি কাটাতে ঢাকাতেই রয়ে গেছেন অনেকে। আবার অনেকেই ঈদের আগে কিংবা ঈদের দিনেই বাড়ি ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে এখনো সেইসব যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।

এদিকে, কোরবানির ঈদ ঘিরে কোরবানির পশুর হাটগুলোতেও জমে উঠেছে বেচাকেনা। ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাটে বেড়েছে মানুষের ভিড়। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা এবারও বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, বড় গরুর বিক্রি কিছুটা কম হলেও শেষ সময়ে দাম কমতে পারে এমন আশায় অনেকেই অপেক্ষায় আছেন।

এমন সময়ে কুরবানির পশুর বর্জ্য যেন পরিবেশদূষণ না ঘটায়, সে বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, যত্রতত্র পশু জবাই, উচ্ছিষ্ট ফেলা ও বর্জ্য ফেলে রাখার কারণে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করতে হবে। পশুর রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, গোবর ইত্যাদি খোলা জায়গায় না ফেলে নির্ধারিত গর্তে মাটি চাপা দিতে বলা হয়েছে।

জবাইয়ের সময় গ্লাভস, মাস্ক, এপ্রোনসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোরবানির মাংস বিতরণ কিংবা বর্জ্য অপসারণে প্লাস্টিকের বদলে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বা পাত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করছে মন্ত্রণালয়।

পরিবেশ মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, "পরিচ্ছন্নতা শুধু শারীরিক নয়, এটি আমাদের ঈমানের অংশ। আসুন, পরিচ্ছন্ন কোরবানির মাধ্যমে আমরা আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করি এবং পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসি।"

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত