৩০ কিলোমিটার যানজটে অচল ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৫, ০৫:১৩ পিএম

ঈদুল আজহার আগের দিনেও সীমাহীন দুর্ভোগ পেরিয়ে বাড়ি ফিরছেন উত্তরবঙ্গমুখী মানুষ। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে, যার ফলে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের যাত্রীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। সেই কষ্ট ভুলে কেউ বাসের ছাদে, কেউ বা খোলা ট্রাক ও পিকআপে করেই ফিরছেন নাড়ির টানে।

আজ শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কজুড়ে দেখা যায় এই তীব্র যানজট। যানজট শুরু হয়েছে যমুনা সেতু এলাকা থেকে শুরু করে করটিয়ার করাতিপাড়া বাইপাস পর্যন্ত, প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায়। অতিরিক্ত গাড়ির চাপ, যমুনা সেতুর ওপর যানবাহন বিকল হওয়াসহ নানা কারণে গত বুধবার (৪ জুন) ভোর ৪টা থেকে যে যানজট শুরু হয়েছিল, তা শুক্রবার দুপুর পর্যন্তও অব্যাহত রয়েছে।

এলেঙ্গা বাসস্টেশন, রাবনা বাইপাস ও আশেকপুর বাইপাস ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কে নেমেছে মানুষের ঢল। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি লোকাল বাস, ট্রাক, লেগুনা, পিকআপ—সব ধরনের যানবাহনেই ঠাসাঠাসি করে মানুষ বাড়ির পথে ছুটছেন। সাধারণ যাত্রীবাহী বাসের চেয়ে ট্রাক ও পিকআপের সংখ্যা ছিল বেশি। গণপরিবহনের সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে পড়ে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উঠছেন বাসের ছাদ বা খোলা ট্রাকে। যাত্রীদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।

পুলিশ, চালক ও ভুক্তভোগী যাত্রীদের মতে, যেখানে সাধারণত দুই ঘণ্টায় রাস্তা পাড়ি দেওয়া যেত, সেখানে লাগছে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিকল হয়ে পড়া, দুর্ঘটনা এবং সেতুর ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতাই এই বিপর্যয়ের কারণ। যমুনা সেতু দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী গাড়িগুলোকে ঘুরিয়ে ভূঞাপুর হয়ে পাঠানো হচ্ছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরীফ জানান, ‘মহাসড়কে একাধিক বাস বিকল হয়ে পড়েছে। যানজট নিরসনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

এদিকে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘যানজট নিরসনে আমরা নিরসলভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত