২০ শতাংশের বেশি প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াল পাকিস্তান

আপডেট : ১২ জুন ২০২৫, ১২:৩০ এএম

ভারতের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার পর প্রতিরক্ষা ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে পাকিস্তান। নতুন বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ২০ শতাংশেরও বেশি বাড়িয়েছে দেশটি। গত মঙ্গলবার রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। মূলত ভারতের সঙ্গে গত মাসে ভয়াবহ সংঘাতের পর পাকিস্তান প্রতিরক্ষা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করেছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পাকিস্তান সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটে প্রতিরক্ষা, নাগরিক প্রশাসন, পেনশন, ভর্তুকি ও অনুদানের খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি। শাহবাজ শরিফের সরকার জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রতিরক্ষা বাজেট ২০.২ শতাংশ বাড়িয়ে ২ হাজার ৫৫০ বিলিয়ন রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ পাকিস্তান সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালন, অস্ত্র-সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হবে। এ ছাড়া ফেডারেল মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সিভিল প্রশাসনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৯৭১ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের অবসর ভাতা বা পেনশন দিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০৫৫ বিলিয়ন রুপি। বাজেট নথি অনুসারে, প্রতি বছর এই খরচ বাড়তে থাকায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।

এদিকে, লন্ডনে পাকিস্তানি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন- সংঘাতের সময় আমাদের পাল্লাই ভারী ছিল। এই সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিলাম এই শর্তে যে, ভবিষ্যতে একটি নিরপেক্ষ স্থানে সব উত্তেজনাপূর্ণ বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়ায় জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধ দ্রুত সমাধান হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বিলাওয়াল বলেন, তিনি আশা করছেন ট্রাম্প বা তার সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। কারণ, সংঘাতের সময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা অবস্থান ভারতের চেয়ে ভালো ছিল। বিলাওয়াল দাবি করেন, পাকিস্তান ভারতের ২০টি জেটকে চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু মাত্র ছয়টি ভূপাতিত করেছে এবং বিশ্বশান্তির জন্য সংযম দেখিয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেছে এবং বিশ্বকে তাদের প্রতিরোধক্ষমতা দেখিয়েছে।

বিলাওয়াল আরও বলেন, আমরা আশা করি যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, তা যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যই হোক না কেন, তারা সবাই তাদের ভূমিকা পালন করবে এবং ভারতকে আলোচনার মাধ্যমে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য রাজি করাবে। তিনি বলেন, আমরা কাশ্মীরসহ সব বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চাই। সব সমস্যার সমাধান কাশ্মীর থেকেই শুরু হবে। বিলাওয়াল বলেন, ছয়টি ভারতীয় জেট ভূপাতিত করে পাকিস্তান তার শক্তি প্রদর্শন করেছে এবং এখন শান্তি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্কর বলেছেন, ভবিষ্যতে  যদি পেহেলগামের মতো হামলার ঘটনা ঘটে, তাহলে পাকিস্তানে আরও জোরালো ও কঠোর প্রত্যাঘাতের মাধ্যমে নয়াদিল্লি তার জবাব দেবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারতের লড়াই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয়। মঙ্গলবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে জয়শঙ্কর বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জীবনযাপন করতে চাই না। তাই তাদের (পাকিস্তান) উদ্দেশে আমাদের বার্তা হলো- যদি এপ্রিলের হামলার মতো বর্বরোচিত ঘটনা ফের ঘটে, সেক্ষেত্রে প্রতিশোধ নেওয়া হবে; সেই প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু হবে সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো। তারা কোথায় অবস্থান করছে তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা থাকবে না। যদি তারা পাকিস্তানের একদম ভেতরে ঢুকে অবস্থান নেয়, আমরাও পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে হামলা করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত