ঈদের ছুটি শেষ হলেও খুশির রেশ যেন এখনো ছড়িয়ে আছে শহরে। সেই আনন্দের আবহেই রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছিল এক ব্যতিক্রমধর্মী ফুটবল ম্যাচ—কোনো লিগ বা প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটুখানি খেলাধুলা, একটুখানি বন্ধুত্ব আর কিছুটা কূটনৈতিক সম্প্রীতির ছোঁয়া।
মুখোমুখি হয়েছিল দু’টি দল—একদিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পর্যায়ের ব্যক্তিত্বেরা, অন্যদিকে ঢাকায় অবস্থানরত কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা। ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে উপদেষ্টাদের দল, আত্মঘাতী এক গোলে তারা ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
খেলার সময় ছিল দুই অর্ধে মোট চল্লিশ মিনিট। মাঝখানে মাত্র একটি গোল হলেও খেলাটি ছিল প্রাণবন্ত, জমজমাট এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল ছিলেন উপদেষ্টা দলের সদস্য। অপরদিকে, কূটনীতিক দলের হয়ে মাঠে নামেন স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্টিয়াগাসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের কয়েকজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা।
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ পরে সাংবাদিকদের জানান, “১০ জুন আমরা যখন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনে ব্যস্ত, তখন কিছু বিদেশি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথায় কথায় এমন একটা প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা উঠে আসে। তারপর আইন উপদেষ্টা আসিফ ভাই ব্যাপারটা নিয়ে এগিয়ে আসেন।”
ম্যাচের নাম নিয়ে এক মজার মন্তব্য করেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল, “প্রথমে ভাবছিলাম দলের নাম টিম বাংলাদেশ রাখব। কিন্তু ভাবলাম, হেরে গেলে দেশের নাম তো ম্লান হয়ে যাবে। তাই নাম ঠিক করলাম টিম অ্যাডভাইজারস। যাই হোক, বয়স আর শক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও আমরা হারিনি—এটাই বড় কথা!”
ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “বাংলাদেশের ফুটবল এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। যেভাবে ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বাফুফে সভাপতির নেতৃত্বে মাঠে পরিবর্তন এসেছে, সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। আগের মতো এলোমেলো খেলায় ভরসা নেই, এখন পরিকল্পনা, গঠন আর ছন্দ রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা থাকলে ফুটবলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।”
তিনি আরও বলেন, 'ফুটবল আমাদের লাইফ লাইন। অন্য দেশের হেজেমনি প্রতিষ্ঠার জন্য ক্রিকেটকে প্রাধান্য দিয়ে ফুটবলকে প্রায় মেরে ফেলা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত ফুটবলপ্রেমী। বাংলাদেশের নাড়ির স্পন্দন ফুটবল। আসিফ ও তাবিথ আউয়াল ফুটবলকে যতটুকু এগিয়ে নিয়েছে আশা করি এটা অব্যাহত থাকবে।'
বিদ্রুপের শিকার বাভুমার হাতেই এখন টেস্ট সেরার দন্ড