নিহত ৪

ইরানের একাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৫, ০৯:০৬ এএম

ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আজ রবিবার এই হামলায় বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি খাত এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করা হয়। পাল্টা প্রতিহত হিসেবে তেহরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, এতে অন্তত চারজনের নিহত এবং আরও অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এই হামলাটি গত দুইদিন আগে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পরের ধাপ, যা ইরানের দ্রুত অগ্রসর পারমাণবিক কর্মসূচিকে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল।

তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যেখানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের আকাশে প্রবেশ করে। একই সময় গালিলিয়া অঞ্চলের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত পেয়ে চারজন নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি জরুরি সেবাগুলো জানিয়েছে। ইরানের ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ তথ্য এখনও জানা যায়নি। হামলায় তেহরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের দাবি, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান জ্বালানী উৎপাদন কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা ইসরায়েল এখনও স্বীকার করেনি।

চলমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নির্ধারিত পারমাণবিক আলোচনা বাতিল হয়ে গেছে, যার কারণে সংঘাতের অবসান কবে এবং কীভাবে হবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, “তেহরান এখন আগুনে পুড়ছে।”

রাতের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে, একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। এ সময়ই ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠক করছিল।

ইসরায়েলের তীব্র আঘাতের পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে একটি জটিল পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে—অধিক জোরালো সামরিক সংঘাতে প্রবেশ করা নাকি কূটনৈতিক সমাধানের পথ নেওয়া।

বিশ্ব নেতারা দ্রুত উত্তেজনা কমিয়ে সামরিক সংঘর্ষ এড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা “বিপজ্জনক নজির” সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলটি গাজায় ইরানের সমর্থিত হামাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘর্ষের কারণে ইতোমধ্যেই উত্তেজনায় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা গত দুই দিনে ইরানের শতাধিক স্থানে হামলা চালিয়ে শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন জেনারেলসহ ৯ জন প্রধান পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, ৭৮ জন নিহত এবং ৩২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বারবার জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলার আগে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের লক্ষ্যে কাজ করছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন, বলেছেন, ইসরায়েলের আঘাত এখনও শুরুর পর্যায়ে রয়েছে, “আগামী দিনগুলোতে তারা আমাদের বাহিনীর হাতে আরও কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হবে।”

সাম্প্রতিক সময় এক সম্ভাব্য উত্তেজনার খবর হলো, ইরানের অর্ধসরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলের একটি ড্রোন ইরানের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রকে আঘাত হেনেছে এবং সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এটি ইরানের তেল ও গ্যাস শিল্পের ওপর ইসরায়েলের প্রথম হামলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ বিষয়ে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

দক্ষিণ পার্স প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। এ ধরনের স্থানে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলো ইসরায়েল ইতোমধ্যে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত