উত্তাল সাগরে এলএনজি সরবরাহ বন্ধে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৫, ০৯:৪৩ পিএম

মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তায় বর্ষার বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ছে উপকূলে। শুধু বৃষ্টি নয় উপকূলে বাতাসের গতিবেগও বেশি। এদিকে বাতাসের গতিবেগের সাথে সাগরের ঢেউয়ের কারণে মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে বুধবার (১৮ জুন) দুপুর থেকে নগরীর শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে বৃষ্টির কারণে বুধবার সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানিও জমে জলাবদ্ধতাও দেখা দিয়েছে।

নগরীতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হওয়ার কথা স্বীকার করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিউল আজম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘ মহেশখালীতে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আর এতে চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ কমে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস বন্ধ হয়ে গেছে এবং পর্যায়ক্রমে আবাসিকেও বন্ধ হতে পারে।’

কবে নাগাদ তা স্বাভাবিক হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাগরের উত্তাল ঢেউ কমলে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক হবে না। এলএনজি থেকে যেখানে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার কথা গতকাল সন্ধ্যায় তা ১৯৫ মিলিয়নে নেমে এসেছে এবং তা শূন্যেতে চলে এলে নগরীর অনেক এলাকায় গ্যাস থাকবে না। 

এদিকে এলএনজি সঙ্কটের কারণেধ গ্যাস সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবাহের কথা রয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নব নির্বাচিত পরিচালক এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা শিল্প মালিকরা মারাতœক ক্ষতির সম্মুক্ষীন হয়েছি। কবে এলএনজি সঙ্কটের কারণে যাতে চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ বিঘœ না ঘটে সেজন্য জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত ছিল।

তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সমস্যায় চট্টগ্রামের শিল্প কারখানাগুলো কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবে? 

এদিকে মৌসুমী বায়ু সক্রিয়তার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। এবিষয়ে কথা হয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা কাজী জেবুন নেসার সাথে। তিনি বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হওয়া লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও এই অবস্থা থাকতে পারে। মৌসুমী বায়ু সক্রিয়তার কারণে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বরিশালের খেপুপাড়ায় ১৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া হাতিয়ায় ১৪৪, কক্সবাজারে ১১১, চট্টগ্রামের আমবাগানে ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।’

বৃষ্টিপাত কতোদিন থাকতে পারে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচদিন এই অবস্থা থাকতে পারে। তারপরও বৃষ্টিপাত কমে মাসের শেষার্ধে আবারো বাড়তে পারে। বছরের এসময়ে মৌসুম সক্রিয় থাকে এবং বৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক।

এদিকে চট্টগ্রামে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত কিন ঘন্টায় ৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এই বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর কাতালগঞ্জ, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কারণে নগরবাসী ভেবেছিল এবারের বৃষ্টিতে পানি জমবে না। তবে সকালের ভারী বৃষ্টিতে পানি দুর্ভোগে পড়েছিল নগরবাসী। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত