ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য গোপন করছে ইসরায়েল

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৫, ০২:৫০ পিএম

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলে হতাহতদের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে দাবি করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। তাদের দাবি, আহত ও নিহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে।

ইরানের তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা ও সেন্সর বোর্ড সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যেন ইরানের পাল্টা হামলায় হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ না পায়। ইসরায়েলি সেন্সর অফিস ইতোমধ্যে হামলার ছবি ও ভিডিও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং দখলীকৃত অঞ্চলের বাসিন্দাদের এসব তথ্য সামাজিক মাধ্যমে না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানে এ পর্যন্ত ১,৮০০ জনের বেশি ইসরায়েলি আহত হয়েছেন। যদিও পত্রিকাটি নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি, আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে—মৃতের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও ভয়াবহ ১১তম হামলার পর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিব, অধিকৃত আল-কুদসসহ একাধিক শহরে সরাসরি আঘাত হানে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।

ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতো বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। কিছু প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র কারিগরি ত্রুটির কারণে নিজ শহরের ওপরই আছড়ে পড়ে, এতে ধ্বংসযজ্ঞের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ইরানের দশম ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দখলদার বাহিনীর ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এয়ারোস্পেস ইউনিট আরেকটি বড় আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানে নামে।

নতুন হামলার সময় অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে সাইরেন বাজতে থাকে। দক্ষিণাঞ্চল ও আল-কুদসে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে তেল আবিব ও মোদিইন শহরেও।

ইরানের এই পাল্টা অভিযান ‘ট্রু প্রমিস থ্রি’ কোডনামে টানা ছয় দিন ধরে চলছে। তেল আবিব, হাইফা ও অন্যান্য দখলকৃত এলাকায় একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে।

এই সামরিক পদক্ষেপগুলো ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। হামলায় ইরানের শীর্ষ কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত