আজ ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২২ দশমিক ১ মিলিয়ন, বা প্রায় ১২ কোটিরও বেশি। আর এই আশ্রয়প্রার্থী মানুষের তালিকায় দ্রুতই বাড়ছে বাংলাদেশীদের সংখ্যাও।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পর্যন্ত ২৮ হাজার ৪৭৩ জন বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে নিবন্ধিত হয়েছেন। আর এখন পর্যন্ত শরণার্থীর মর্যাদা চেয়ে আবেদন করেছেন ১ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি। ২০২৩ ও ২২ সালে প্রায় ৪৮ হাজার এবং এর আগে ২০২১ সালে সাড়ে ২২ হাজার এবং ২০২০ সালে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি নিজেদেরকে শরণার্থী দাবি করে জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছেন।
আগে বাংলাদেশি শরণার্থীদের তাদের প্রধান গন্তব্য ছিলো মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলো। কিন্তু সম্প্রতি সোমালিয়ার মত অনুন্নত দেশে ৬ জন বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার বিষয়টি নজর কেড়েছে সবার।
শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বব্যাপী এখন শরণার্থী সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ইউএনএইচসিআর জানায়, বিশ্বব্যাপী ১২ কোটিরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন যাদের মধ্যে মাত্র সোয়া ৪ কোটি মানুষ আন্তর্জাতিক শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃত। সুদান, মিয়ানমার, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলের সংকট শরণার্থীর এই সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে বলে জানায় ইউএনএইচসিআর।
বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষ্যে ইউএনএইচসিআরের হাই কমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি এক বার্তায় বলেছেন, ‘এই মানুষগুলো শুধু টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে। আমরা যদি এখনই সাহায্য না করি, তাহলে তারা সত্যি সত্যিই অনাহারে মারা পড়বে।’
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের উদ্যোগে ২০০১ সাল থেকে এই দিনে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে যখন বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তখন মানবিক সহায়তার জন্য তহবিল সংকট প্রকট হচ্ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, অনেক জরুরি প্রকল্প অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
