এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিতে ৫ প্রস্তাব রাশেদ তিতুমীরের

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এলডিসিগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) হাই-লেভেল সেগমেন্টের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান ঋণঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বল্পোন্নত দেশগুলো (এলডিসি) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথ থেকে পিছিয়ে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ শুধু ২০৩০ এজেন্ডার বাস্তবায়ন নয়, ২০৩১ সালের মধ্যে টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণ নিশ্চিত করার দোহা কর্মসূচির লক্ষ্যকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে, যাদের ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক নানা কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল উত্তরণের প্রস্তুতির সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। তাঁর মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার সম্পন্ন করতে এই অতিরিক্ত সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আগামী বছর দোহায় অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা (মিড-টার্ম রিভিউ) বৈঠক কাঠামোগত সংস্কার ও বিদ্যমান ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হবে। এ উপলক্ষে তিনি এলডিসিগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পাঁচটি অগ্রাধিকার প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রথমত, ঋণঝুঁকি মোকাবিলা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার মতো উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পর্যাপ্ত ও স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এলডিসিগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা বিবেচনায় সহজ শর্তে ঋণ, ঋণ পরিশোধে স্থগিত সুবিধা এবং টেকসই ঋণ সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে।

তৃতীয়ত, অভিযোজন, জ্বালানি রূপান্তর এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এ সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে জলবায়ু অর্থায়নকে আরও সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য করার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থত, এলডিসিগুলোর জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, শুল্ক সুরক্ষাবাদ কমানো এবং সহজ বাণিজ্য বিধির মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

পঞ্চম ও শেষ প্রস্তাবে তিনি প্রযুক্তি স্থানান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত