ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ার আহ্বান

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও অন্যান্য বৈশ্বিক অভিঘাতের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান রাজস্ব চাপ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণ পুনর্গঠন, ঋণের বোঝা কমানো, ঋণ পরিশোধে স্থগিত সুবিধা এবং ঋণসংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শিশু ও নারীর কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের গতি বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্কে ইউনিসেফ সদর দপ্তরে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ বিভাগের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবানের সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং ঋণের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের রাজস্ব সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। তবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার নারী, শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকীও উপস্থিত ছিলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, নতুন সরকার নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। তিনি জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে গর্ভাবস্থা, শিশুর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা ও বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে সরকারের প্রস্তাবিত ‘এক শিশু, এক কার্ড, এক নম্বর ও এক ওয়ালেট’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি সেবাপ্রাপ্তি আরও সমন্বিত ও কার্যকর হবে।

এ ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, জাদুঘর পরিদর্শন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিশুদের সার্বিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা সত্ত্বেও শিশু, নারী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

শিক্ষা, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনিসেফের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন টেড শেইবান

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত