ইরানের হামলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ইসরায়েলের ৮ হাজার বাড়ি

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৫, ০৫:১৫ পিএম

ইরান সোমবার দুপুরের দিকে ইসরায়েলের উদ্দেশে নতুন অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এই হামলার পর সারা দেশে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজতে শুরু করে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে, তবে আগামী তিন ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চার দফায় প্রায় ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে ইসরায়েলের উত্তর দিক থেকে শুরু করে গাজা উপত্যকার দক্ষিণ সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং লাখো মানুষকে প্রায় এক ঘণ্টা বোমাশেল্টারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

ইসরায়েলের জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা, ইসরায়েল ইলেকট্রিক করপোরেশন (আইইসি) এক বিবৃতিতে জানায়, একটি কৌশলগত অবকাঠামোর কাছাকাছি অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় ওই এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আইইসি আরও জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিষ্কারে তাদের টিম ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে এবং তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে।

ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বেশিরভাগই প্রতিহত করা হলেও, তিনটি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আঘাত হানে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ক্যান টিভির তথ্য অনুযায়ী, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আশদোদ শহরে, আরেকটি মধ্য ইসরায়েলের ইয়াভনেহতে এবং তৃতীয়টি উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানে।

মিসাইলের টুকরো আরও কিছু স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে দক্ষিণ ইসরায়েলের লাখিশ অঞ্চলের একটি সড়কও রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি রেসকিউ সংস্থার একজন মুখপাত্র। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ডের কর্নেল ইয়ারোন বার দায়ান জানান, এই হামলায় ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিস্ফোরণের সময় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত