গাজার আকাশে আগুন, মাটিতে হাহাকার—এ যেন এখন এক চেনা দৃশ্য। গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় সেখানে নিহত হয়েছেন অন্তত ৭৯ জন। এর মধ্যে ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন প্রায় তিন শতাধিক।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ত্রাণের আশায় লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যে দুঃসহ ঝুঁকি নিচ্ছেন, তা আর শুধু মানবিক সংকট নয়—এটা যেন জীবন-মৃত্যুর তামাশায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে মধ্য গাজার সালাহ আলদির সড়কে যুক্তরাষ্ট্র-প্রতিষ্ঠিত ত্রাণ সংস্থা জিএইচএফ–এর এক বিতরণকেন্দ্রের সামনে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ১৪০ জন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। খান ইউনিস, গাজা সিটি ও রাফায়ও ত্রাণ বিতরণের সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন আরও অনেকে।
অবশ্য এ চিত্র নতুন নয়। চলতি মাসজুড়েই গাজার মানুষের ত্রাণ সংগ্রহের চেষ্টাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক মাসে ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ৫০০ জনের বেশি, আহত হয়েছেন প্রায় চার হাজার।
৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের চালানো অভিযানে প্রাণ গেছে ৫৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির। আহত হয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি। শুধু মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন প্রায় ছয় হাজার মানুষ।
গাজায় দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে জিএইচএফ নামে একটি ত্রাণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে। যদিও মানবিক সহায়তার এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপেক্ষা করে এবং সামরিক সহায়তায় ত্রাণ বিতরণ আসলে মানবিকতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সামিল।
বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি বলেন, “এই পদ্ধতিকে এখন ‘ত্রাণ’ বলা যায় না। এটা একটি ঘৃণ্য ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের ক্ষুধা ও দুর্দশাকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বানানো হচ্ছে।”
গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ প্রবেশ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে পুরো উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। এমনকি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অনেক অঞ্চল ‘দুর্ভিক্ষের প্রাক্কালে’ রয়েছে।
মানবিক বিপর্যয়ের এই চিত্রে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘ত্রাণের জন্য গুলি’ নামক নির্মম বাস্তবতা। যেখানে এক মুঠো খাবারের আশায় দাঁড়ানো মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে অস্ত্রের মুখে।
১৪ ইরানি বিজ্ঞানীকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
ইসরায়েল, আর একটা বোমাও ফেলো না, কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের