২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে ইরানকে ঘিরে এক নতুন প্রশ্ন। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উত্তেজনাকর সম্পর্ক বিশ্বকাপের সূচি ও অবস্থান নিয়ে ফিফার সামনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।
ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের জায়গা নিশ্চিত করেছে আগেই—টানা চতুর্থবারের মতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ইরানিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ এবং সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি স্থাপনায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তখন ইরান দলের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা আদৌ সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
যদিও ফিফার বিধিতে কোনো দেশকে আয়োজক দেশের ভিসা বিধিনিষেধের কারণে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই, তারপরও বাস্তবতা বলছে—ইরান দল এবং তাদের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের জন্য কিছু ভিসা ছাড়প্রাপ্তির সুযোগ থাকলেও সেটা সবসময় কার্যকর হয় না বা প্রক্রিয়াগতভাবে সহজ নয়।
এমন পরিস্থিতিতে একমাত্র সম্ভাব্য উপায়—বিশেষ ব্যবস্থায় ইরানকে ‘গ্রুপ এ’-তে রাখা, যাতে তারা তাদের সব গ্রুপ ম্যাচ মেক্সিকোতে খেলতে পারে। এই গ্রুপে শীর্ষে উঠলে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচও মেক্সিকোতেই হবে। তবে শেষ ষোলো পার হওয়ার পর নকআউট পর্বে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি না দিয়ে উপায় থাকবে না।
এমন নজির অবশ্য ফুটবল দুনিয়ায় নতুন নয়। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর উয়েফা ইউক্রেন ও বেলারুশকে একই গ্রুপে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, যা এবার ফিফাও অনুসরণ করতে পারে। উয়েফার বর্তমান সভাপতি আলেকসান্দার চেফারিন, যিনি ফিফার প্রতিযোগিতা কমিটিরও চেয়ারম্যান, তখন দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এবার তাঁর নেতৃত্বে থাকা কমিটির পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে সুপারিশ আসতে পারে।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ড্র অনুষ্ঠিত হবে আগামী ডিসেম্বরে। তার আগেই ফিফাকে নির্ধারণ করতে হবে ইরানকে কোন গ্রুপে রাখা হবে এবং তাদের ম্যাচ আয়োজন কোন দেশে হবে। এমন এক সময়, যখন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখছেন, তখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করেই তাকে নিতে হবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
এ প্রসঙ্গে ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন তাঁদের দিকে। ক্রীড়া মাঠের বাইরে এবার ফিফার বড় পরীক্ষা—কিভাবে বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপকে এড়িয়ে তারা মাঠের লড়াই সুষ্ঠু রাখতে পারে।
একদিনে ৯৪৩ শিশুকে ক্রিকেট শিখিয়ে গিনেস বুকে ‘চান্স টু শাইন’
বিসিবির সংবর্ধনায় দেখা যাবে না ৫ অভিষেক ক্রিকেটারকে