আশুলিয়া

প্রেমের ফাঁদ পেতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫, ০৭:৪৮ পিএম

সাভারের আশুলিয়ায় প্রেমের ফাঁদ পেতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে হানি ট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আশুলিয়া থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির।

গ্রেপ্তাররা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার মুন্সিরচর গিমাডাঙ্গা গ্রামের মোঃ মোতালেব শেখের ছেলে মোঃ ইয়াছিন শেখ (২৫) এবং মাগুরা জেলার সদর থানার শিমুলিয়া গ্রামের মোঃ অলিয়ার রহমানের মেয়ে সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার (২৫)। বর্তমানে তারা উভয়েই আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলা এলাকায় বসবাস করে আসছিলো।

অপরদিকে ভুক্তভোগী পলাশ হোসেন (২৫) মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার পেচুয়াধারা গ্রামের মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন ৭/১-বি দক্ষিণা আবাসন এলাকার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির জানান, গত ২০ জুন হানি ট্র্যাপ ডেটিং সাইট টানটান অ্যাপসে জামগড়ার সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হয় পলাশ হোসেনের। সেই সূত্র ধরে সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার গত ২০ জুন রাত ৯টার দিকে পলাশ হোসেনকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ডেকে আনে। পরে প্রতারক সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার ও ইয়াসিন শেখ পলাশ হোসেনকে একটি বাড়ির ছাদে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ও নগ্ন ভিডিও ধারণের কথা বলে তার কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন।

কিন্তু তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় প্রতারকরা পলাশ হোসেনের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি আইফোন, এটিএম কার্ড ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ২১ জুন রাতে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার পর পলাশ সুস্থ হয়ে রাতে প্রতারক সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার এবং ইয়াসিন শেখকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বুধবার রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। এছাড়া অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় প্রতারক চক্রের আরও কেউ এর সঙ্গে জড়িত আছে কিনা সে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধে জড়িত বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত