ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথমবার প্রকাশ্যে এসে তিনি তার দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরলেন।
৮৬ বছর বয়সী খামেনি দাবি করেন, ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান জয় পেয়েছে। যুদ্ধের শেষ দিকে ইরান কাতারে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। কারণ এর আগে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে হামলায় যোগ দিয়েছে।
খামেনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সত্যটা প্রকাশ করেছেন এবং স্পষ্ট করে বলেছেন ইরান আত্মসমর্পণ না করে ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট হবে না। কিন্তু এমনটা কখনোই ঘটবে না।’
যুদ্ধবিরতির দুই দিন প্রকাশ্যে এসে এমন বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের নেতা। ১৯ জুনের পর এটাই খামেনির প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি।
এ বক্তব্যের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের মূল পারমাণবিক কেন্দ্র ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে চালানো হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য উঠে আসে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, হামলায় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ‘ধ্বংস’ হয়ে গেছে।
তবে খামেনি এই দাবিকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অর্জন নেই। এই হামলায় আমাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতিই হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র বিজয়ী হয়েছে। আর এই বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের মুখে চপেটাঘাত।’
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি রেসুল সারদার জানান, খামেনি তার ভাষণে ইরানের সেনাবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইসরায়েলের হামলায় ইরানি সেনাবাহিনী বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে বিশ্বব্যাপী যে দাবি ছড়িয়ে পড়েছে সেটিকে তিনি উড়িয়ে দেন।
