নির্বাচন নিয়ে কী আলোচনা হলো, জাতিকে জানান: সালাহউদ্দিন

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, ১২:৪০ এএম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের মধ্যে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর বক্তব্য, “যদি উভয় পক্ষ থেকে জাতির সামনে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়, তাহলে আমরা আশ্বস্ত হই।”

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিনের ধারণা, আসন্ন রমজান শুরু হওয়ার আগেই অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে প্রধান উপদেষ্টা হয়তো সিইসিকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পরে আমরা আহ্বান করেছিলাম, সেখানে সম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি যেন প্রধান উপদেষ্টা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছে দেন। আমরা সেই বার্তার অপেক্ষায় ছিলাম।” 

তিনি আরও বলেন, “বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম, হয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, না হয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানানো হবে। আমরা অনুমান করছি, প্রধান উপদেষ্টা হয়তো নির্বাচনের সময়সীমা সম্পর্কে সিইসিকে অবহিত করেছেন। তবে আদৌ এ রকম কোনো বার্তা দেওয়া হয়েছে কি না, তা আমরা জানি না। তাই দুই পক্ষের স্পষ্ট বক্তব্যের অপেক্ষায় আছি।”

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, “ইসির পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে যে তারা সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করবে। এর আগে তারা জানিয়েছিল, জুলাইয়ের মধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন সম্ভব। ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ তারা শেষ করেছে। নির্বাচন উপকরণ সংগ্রহ ও অন্যান্য প্রস্তুতিও প্রক্রিয়াধীন। এরপরের ধাপগুলো—তফসিল ঘোষণার পর কর্মকর্তা নিয়োগ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি—চলমান কাজ, যেগুলোর জন্য আলাদা প্রস্তুতি লাগে না।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে যে সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা মত দিয়েছেন, সেখানে সব রাজনৈতিক দল একমত। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন অসম্ভব। কারণ, প্রতিটি স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে হলে কমপক্ষে ছয় মাস সময় প্রয়োজন, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন আগেও জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে করতে গেলে জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজন করা সম্ভব নাও হতে পারে।

বিএনপি নেতা বলেন, “প্রায় সব রাজনৈতিক দলই যদি প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একমত হয়, তাহলে স্থানীয় নির্বাচন আগে করার সুযোগই নেই। আমাদের লড়াই জাতীয় নির্বাচনের জন্য, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ঘিরে আমরা কখনো গণ-আন্দোলন করিনি।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি সঠিক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই এখন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। একইসঙ্গে এটি প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন সরকারেরও প্রধান কর্তব্য।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত