ফের কেএমপি কমিশনারের অপসারণ দাবিতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, ০৬:২৭ পিএম

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের অপসারণের দাবিতে সময় বেঁধে দিয়ে আলটিমেটাম দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। আজ শনিবার তাদের বেঁধে দেওয়া আলটিমেটাম শেষ হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে পুলিশ কমিশনার অপসারণ না হওয়ায় কর্মসূচির তৃতীয় দিন তারা ফের একই দাবিতে কেএমপির সদর দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। বিকাল ৪টা থেকে আন্দোলনকারীরা কেএমপির সদর দপ্তরের সামনের সড়কে অবস্থান নেন।

তারা রাস্তার দুই পাশ বন্ধ করে নানা স্লোগান দিতে থাকে। কর্মসূচিতে খুলনার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরও অংশ নেন। ছোট ছোট দলে বিভাক্ত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা ‘সুকান্তের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘পুলিশ কমিশনারের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘পুলিশ কমিশনার জুলফিকার, আস্ত একটা স্বৈরাচার’, ‘জুলফিকারের চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘পুলিশ কমিশনার জুলফিকার, হিজড়া হিজড়া’, ‘পুলিশ কমিশনার জুলফিকার এখন হবে চৌকিদার’, ‘লড়তে হবে, লড়তে হবে, এই লড়াই জিততে হবে’ এমন নানা স্লোগানে উত্তাল করে তোলেন। এতে খানজাহান আলী সড়কের র‌্যায়াল মোড় থেকে রূপসা ট্রাফিক মোড় পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার আন্দোলন অব্যাহত ছিল।

বিক্ষোভকারীরা জানান, মঙ্গলবার খানজাহান আলী থানা এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন এসআই সুকান্ত দাসকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তবে পুলিশ পরে তাকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা দুই দিন কেএমপির সদর দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।

তাদের অভিযোগ, পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারসহ কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপেই সুকান্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার রাতে কমিশনারের অপসারণে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

শনিবার দুপুর ১২টায় সেই সময়সীমা শেষ হয়। এরপর থেকে আবারও কেএমপি সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে নামে আন্দোলনকারীরা। তারা রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দেয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা বলেন, খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ। মানুষ নিজেদের অনিরাপদ মনে করছে। পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আমরা তার অপসারণ চাই।

তবে কেএমপি বলছে, উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্তকে বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত