ড. ইউনূস-রুবিওর ফোনালাপ

পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে: প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৫, ১১:১৭ পিএম

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ফোনালাপে তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রয়োজনীয়তাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। এর আগে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফোনালাপের বিষয়টি জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি জানান, দুই জনের মধ্যে ১৫ মিনিটের কথোপকথন ছিল উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং গঠনমূলক। যা দুই দেশের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিফলন।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিবৃতিতে জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আজ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে, ফোনালাপে উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য আলোচনা, চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া, গণতন্ত্রের উত্তরণ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা।

এসময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং আগামী বছরের শুরুর দিকে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য এবং রেমিট্যান্সের শীর্ষ উৎস। এ বিষয়টি তুলে ধরে শুল্ক নিয়ে আলোচনা শিগগিরই আলোচনা হবে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে দুজনই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যান্ডাউয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বিবৃতিতে বলা হয়, চমৎকার এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বন্ধন জোরদারে প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন তারা।

৯০ দিনের জন্য বাংলাদেশের ওপর শুল্ক স্থগিতের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। 

দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের মার্কিন সমর্থন কামনা করে ড. ইউনূস রুবিওকে জানান, আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান সংলাপের ফলে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার আসবে।

ফোনালাপে প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে, যা পূর্ববর্তী সরকার ধ্বংস করে দিয়েছিল।

এসময় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার জন্য ওয়াশিংটনের প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তায় শীর্ষ দাতা দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে। ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর একটি কার্যকর সমাধানের সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে ভালো এবং বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে কাজ করছে,’ রুবিওকে বলেন অধ্যাপক ইউনূস।

দুই নেতার ফোনালাপে ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলোও উঠে আসে, যার মধ্যে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণতন্ত্রে উত্তরণ প্রত্যক্ষ করার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘এ সফর আমাদের তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।’

 

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত