জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫, ১২:৪৭ পিএম

রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন দলের দ্বিতীয় পর্যায়ের সপ্তম দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১১টা ৮ মিনিটে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই  বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিষয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ড. আইয়ুব মিয়া উপস্থিত আছেন।

সংস্কারের লক্ষ্যে কমিশন দ্বিতীয় পর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করছে। এ পর্যায়ে ২০টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৯টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি বিষয়ে পূর্ণ এবং কয়েকটি বিষয়ে আংশিক ঐকমত্য হয়েছে। তবে কোনো প্রস্তাবই এখনো চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়নি।

ইতোমধ্যে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব দেওয়া, নারী আসনে সরাসরি ভোট, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা এবং রাষ্ট্রের মূলনীতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্তি। এনসিসির পরিবর্তে ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটি’ গঠনের নতুন প্রস্তাবও উঠেছে।

এ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন এবং বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা ১০ বছরে সীমিত রাখার প্রস্তাবেও দলগুলো প্রায় একমত, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির অবস্থান হলো, এনসিসি বা অনুরূপ কমিটি গঠনের বিধান সংবিধানে না রাখলে তারা প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসংক্রান্ত প্রস্তাব মেনে নেবে।

এছাড়াও নির্বাচনী এলাকা সীমানা নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা, সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, স্থানীয় সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব, উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি এবং জেলা সমন্বয় কাউন্সিল গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো আলোচনার অপেক্ষায়।

গত ২৯ জুনের বৈঠকে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছিলেন, ১৬ জুলাই আবু সাঈদের শাহাদাতবার্ষিকীতে সব দল মিলে ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করার স্বপ্ন দেখছেন তারা। তবে তা কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার ওপর।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত