তিব্বতের মানুষের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা। বুধবার তিনি নিশ্চিত করেছেন, তার মৃত্যুর পর একজন উত্তরসূরি থাকবেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে বৌদ্ধ অনুসারীদের মধ্যে চলা দীর্ঘ জল্পনার অবসান হলো। কেননা ৬০০ বছরের পুরোনো দালাই লামা প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে অনুসারীদের মধ্যে দ্বিধা ছিল।
অনেকের শঙ্কা ছিল তারা হয়তো ভবিষ্যতে নেতৃত্বহীন হয়ে পড়বেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে যারা দালাই লামাকে অহিংসা, করুণা এবং চীনের শাসনাধীন তিব্বত অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখেন, তাদের কাছেও ঘোষণাটি গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার ভারতের ধর্মশালা থেকে পাঠানা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, শুধু তার প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টই তার উত্তরাধিকার নির্ধারণ করতে পারবে এবং ‘এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার অন্য কারও নেই’।
তিব্বতি ঐতিহ্য অনুযায়ী, দালাই লামারা মৃত্যুর পর পুনর্জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে চীন তিব্বত দখল করে নেয় এবং বর্তমান দালাই লামা ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। ফলে উত্তরাধিকার নির্ধারণ বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
বেইজিং এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা বলেছে তার উত্তরাধিকার চীনের ভেতরেই হবে এবং সরকারের অনুমোদন নিতে হবে।
দালাই লামা লাইব্রেরি ও আর্কাইভ কেন্দ্র থেকে ভিডিও বার্তাটি সম্প্রচার করা হয়। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সন্ন্যাসীরা মিলিত হন।
বিবৃতিতে দালাই লামা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, দালাই লামা প্রতিষ্ঠানটি চলমান থাকবে। গাডেন ফোদরাং ট্রাস্ট এবং দালাই লামার দপ্তর... পূর্ববর্তী ঐতিহ্য অনুসারে অনুসন্ধান ও স্বীকৃতি প্রক্রিয়া সম্পাদন করবে।
ধর্মশালায় বর্তমানে দালাই লামার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন চলছে। তিব্বতি চন্দ্রপঞ্জিকা অনুসারে গত সোমবার থেকে তার জন্মদিন উদযাপন শুরু হয়েছে। এটি শেষ হবে আগামী ৬ জুলাই।
