নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের 'গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ' উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে সন্তানের প্রথম জন্মদিনে পার্টির পরিবর্তে বৃক্ষরোপণ করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত সেই পরিবেশপ্রেমী দম্পতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে আরিফুল ইসলাম ও আসমাউল হুসনা নীরা দম্পতির কন্যা আরিবাহ্ ইসলামের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কেটে তাকে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক।
এ সময় তিনি শিশুটিকে কোলে তুলে আদর করেন এবং উপহারস্বরূপ তার হাতে তুলে দেন একটি উপহার সামগ্রী। পাশাপাশি দম্পতির হাতে একটি নারিকেল গাছের চারা তুলে দেন, যা তারা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা পরিষদ ভবনের পাশের সড়কদ্বীপে রোপণ করেন।
জেলা প্রশাসক এই সময় বলেন, এই পরিবারটি প্রকৃতির প্রতি যে অসাধারণ ভালোবাসা দেখিয়েছে, আমরা সবাই যেন সেটা থেকে অনুপ্রাণিত হই। তিনি জেলার সব নাগরিককে পরিবেশ রক্ষায় এমন দায়িত্বশীল ভুমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শিশু আরিবাহর মা আসমাউল হুসনা নীরা বলেন, সৃষ্টির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা চেয়েছিলাম আমাদের মেয়ের প্রথম জন্মদিন হোক পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক শুধু প্রশংসা করেই থেমে থাকেননি—তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, কেক কেটেছেন, উপহার দিয়েছেন এবং আমাদের আরও ভালো কাজের জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আন্তরিকতা আমাদের মুগ্ধ করেছে।
শিশুটির বাবা আরিফুল ইসলাম বলেন, আজকের এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের ছোট্ট প্রয়াসকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, তা আমাদের জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও যোগ করেন, জেলা প্রশাসকের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক নেতৃত্ব আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। আমরা অঙ্গীকার করছি, বাসার আশেপাশে রোপণ করা প্রতিটি গাছের যত্ন আমরা নিজেরাই নেব।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম চলতি বছরের ১০ মে থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় কমপক্ষে এক লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তার ‘সবুজে ঘেরা নারায়ণগঞ্জ, প্রাচ্যের ড্যান্ডি হবে বিশ্বে সেরা’ এই স্লোগান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলজুড়ে চলছে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম।
এই দম্পতির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে চাইলে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
