পুঁজিবাজারে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আমরা নেটওয়ার্ক লিমিটেডের ডেটা সেন্টার বিক্রি ও শেয়ার কারসাজি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং সহকারী পরিচালক মো. মোসাব্বির আল আশিক। কমিটি কোম্পানিটির ডেটা সেন্টার বিক্রির প্রকৃত কারণ এবং অস্বাভিক দাম বাড়ার কারণ অনুসন্ধান করে দেখবে। আমরা নেটওয়ার্ক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর। বর্তমানে কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে।
জানা গেছে, কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ডেটা সেন্টার বিক্রি করার ঘোষণা দেয়। এ সম্পদ বিক্রির ফলে মুনাফার ওপর প্রভাব পড়বে বলে জানায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বছরের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাই কোম্পানিটির ডেটা সেন্টার বিক্রি এবং শেয়ারদর অস্বাভাবিক বাড়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।
এ লক্ষ্যে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে শর্তসাপেক্ষে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। তদন্তের বিষয়ে আমরা নেটওয়ার্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মতে, ২০২২ সালের ১ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ৩৬ দশমিক ১০ টাকা। অর ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বেড়ে দাঁড়ায় ৭২ দশমিক ৫০ টাকায়। পরবর্তী সময়ে ৫ জুন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ দশমিক ৮০ টাকায় ওঠে। ফলে ডেটা সেন্টার বিক্রির সংবাদ প্রকাশের পর আমরা নেটওয়ার্কের শেয়ারের দাম ১ বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে আমরা নেটওয়ার্কের পরিচালনা পর্ষদ। সর্বশেষ হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২ দশমিক ৪৬ টাকা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ২ দশমিক ৪৩ টাকা। গত ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক শূন্য ১ টাকা।
