জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষক নিহত, গ্রেপ্তার-৫

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত এক কৃষকের হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ।

নিহত কৃষকের নাম জিয়াউল হক (৫৫) শনিবার (৪ জুলাই) গভীর রাতে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান আসামি সাজুসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ জুলাই) দুপুরের দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম সম্রাট।

এর আগে শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের উত্তর জাঙ্গালিয়া এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ সাজু মিয়া ও তার লোকজনের হামলায় কৃষক জিয়াউলসহ ৮ জন আহত হয়।

আহতরা হলেন, জিয়াউল হক (৫৫) ও তার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মনির (১৮), স্ত্রী মরিয়ম (৪০), মেয়ে জান্নাতি (১৭), রুবেল (৩৬), রেহানা বেগম (৩৮), চাম্পা বেগম (৪০) ও শিশু সোহান (১০)। পরে তাদেরকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর ঘর-বাড়ি তালা দিয়ে গা-ঢাকা দেয় অভিযুক্তরা।

ঘটনার দিন রাতেই জিয়াউল হকের ভাগিনা সবুজ হোসেন বাদী হয়ে ১৯ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাজু মিয়াসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাজু মিয়া (৪০), সুমন (২৮), আহাজ উদ্দিন (৬৫), রাজু (২৫) ও সাজুর ছেলে নাঈম (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক ৪ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জিয়াউল হক ও তার চাচাতো বোনের ছেলে সাজু মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ওইদিন সাজু মিয়া লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাঁশ কাটতে যায়। জিয়াউল হক ও তার পরিবারের লোকজন বাঁশ কাটতে বাঁধা দেয়। এতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাজু মিয়া দলবলসহ জিয়াউল হক ও তার পরিবারের লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় জিয়াউল হক ও মনির, মরিয়ম, জান্নাতি, রুবেল, রেহানা বেগম, চাম্পা বেগম ও শিশু সোহান আহত হয়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আর ছয়জনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থার সঙ্কটাপন্ন দেখে তাদের মধ্যে জিয়াউল হককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে তাদের বাড়িতে যাওয়া হয়। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি।

মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম সম্রাট বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় জিয়াউল হকসহ ৮ জন আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে জিয়াউল হক মারা যান। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত