যুদ্ধের পর প্রকাশ্যে এসে ‘এই ইরান’ গাইতে বললেন খামেনি

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৫, ০৭:৫০ পিএম

ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে উপস্থিত হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শনিবার (৬ জুলাই) তেহরানে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন বলে জানিয়েছে বিবিসি ফার্সি।

অনুষ্ঠানে সরকারপন্থী গায়ক মাহমুদ করিমিকে উদ্দেশ করে খামেনি বলেন, “তুমি যদি ক্লান্ত না হও, তবে ‘এই ইরান’ গানটি গাও।”

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর এই দেশাত্মবোধক গান ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

শনিবার রাতে তেহরানে ‘হোসাইনিয়ায় বেইত-রাহবারি’তে মহররম উপলক্ষে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন খামেনি।

’এই ইরান’ গাইছেন শিল্পী মাহমুদ করিমি

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বয়স আশির কোঠায় থাকা খামেনি একটি মসজিদে উপস্থিত হয়ে উপস্থিত মানুষের অভ্যর্থনা গ্রহণ করছেন এবং উপস্থিত জনতা তাকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন। অনুষ্ঠানটি ছিল ইমাম হোসাইনের শহিদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যা শিয়া মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

৮৬ বছর বয়সী খামেনেয়িকে কালো পোশাক পরা অবস্থায় মঞ্চে দেখা যায়, যেখানে উপস্থিত জনতা মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে স্লোগান দিচ্ছে—‘আমাদের রক্ত, আমাদের নেতার জন্য!’

খামেনির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লেখা হয়, পবিত্র আশুরার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ‘হোসাইনিয়ার ইমাম খোমেনিতে’ ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের উপস্থিতিতে শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে তিনি দেশাত্মবোধক ‘এই ইরান’ গানটি গাইতে বলেন। গানটির কথা লিখেছেন তুরজ নেগাহবান এবং সুর করেছেন মোহাম্মদ সারির। মোহাম্মদ নূরির গাওয়া এই গানটি ইরানের অন্যতম স্মরণীয় সংগীত হিসেবে বিবেচিত হয়। মাহমুদ করিমি এতে নিজের মতো কিছু পরিবর্তনও করেছেন।

টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, ভিডিওটি তেহরানের কেন্দ্রীয় ইমাম খোমেনি মসজিদে ধারণ করা হয়েছে যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনির নামে নামকরণ করা হয়েছে।

ইরানে ইসরায়েলের হামলার শুরু থেকে টানা ২২ দিন পর্যন্ত আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রকাশ্যে আসেননি। এ সময় শুধু আগে রেকর্ড করা খামেনির তিনটি ভাষণ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছিল।

যুদ্ধ শেষে এবং নিহত শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের জানাজা অনুষ্ঠানেও খামেনির অনুপস্থিতি সবার নজরে আসে। এমনকি এবারের আশুরার শোক অনুষ্ঠানও আগের মতো ছিলনা। সাধারণত মহররমের প্রথম রাতের অনুষ্ঠান খামেনির উপস্থিতিতে শুরু হলেও এবার শুধু নির্বাহী ও বিচার বিভাগের প্রধানরা এবং কিছু সামরিক কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন অনুপস্থিত। অনুষ্ঠানে অনেক শিশুকেও আনা হয়েছিল, যাদের হাতে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের ছবি ছিল।

ইরানের সরকারি গণমাধ্যমগুলো খামেনির অনুপস্থিতি নিয়ে কিছু বলেনি এবং তার অনুপস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত