টেনিস খেলোয়াড়দের চাপ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতোই: কোহলি

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৫, ০৮:৪২ পিএম

দশ বছর পর স্ত্রী আনুশকা শর্মাকে নিয়ে উইম্বলডন দেখতে গিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। তাই টেনিস তারকাদের পাশাপাশি তিনিও উঠে এসেছেন শিরোনামে। গতকাল সোমবার তারা নোভাক জোকোভিচ বনাম অ্যালেক্স ডি মিনাউরের ম্যাচ উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের কোহলি বলেন, উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে খেলার চাপ অনেকটা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতোই।

ভারতের সাবেক টেনিস খেলোয়াড় বিজয় অমৃতরাজ এদিন কোহলির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। কোহলির কাছে প্রশ্ন ছিল- উইম্বলডনে খেলা এবং লর্ডসের মতো ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? কোহলির উত্তর, ‘দুই জায়গাতেই চাপ থাকে। কারণ স্টেডিয়ামে প্রচুর মানুষ থাকে। তবে সেন্টার কোর্টের মতো চাপ আর কোথাও থাকে না। কারণ, দর্শকরা আপনার অনেক কাছে বসে থাকে। তাদের সব কথা শোনা যায়।’

নিজের বক্তব্যের ব্যখ্যায় কোহলি বলেন, ‘মনে করুন আমি ব্যাটিংয়ে নেমেছি। সমর্থকেরা তখন আমার থেকে অনেকটা দূরে থাকে। তাই নিজের ভাবনাতে ডুবে থাকার এবং নিজের কাজ করার সুযোগ পাই। কারও কোনো কথা কানে আসে না। শুধু বাউন্ডারির কাছে ফিল্ডিং করার সময় দর্শকদের কথাবার্তা আপনি শুনতে পারবেন। তবু ব্যক্তিগত দক্ষতায় হার-জিতের কোনো ব্যাপার সেখানে থাকে না।’

এখানেই টেনিসের গুরুত্ব বেশি বলে মনে করেন কোহলি, ‘সেন্টার কোর্টে খেলা খুব কঠিন। দর্শকরা আপনার পাশেই বসে আছে, কথা বলছে, সমালোচনা করছে, আওয়াজ দিচ্ছে। এ কারণে টেনিস খেলোয়াড়দের আমি সমীহ করি। কারণ তারা যে মানসিকতা আর ফিটনেসের প্রদর্শনী দেখায়, সেটা অসামান্য। এরকম অভিজ্ঞতা দেখা যায় বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বা সেমিফাইনাল-ফাইনাল ম্যাচে। তখন শিরদাড়া দিয়ে শীতল স্রোত বইতে থাকে। টেনিস খেলোয়াড়েরা হয়তো কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই এরকম চাপের মধ্যে থাকে।’

এক পর্যায়ে অমৃতরাজ প্রশ্ন করেন, ছেলেদের ফাইনালে কাদের দেখতে চান কোহলি? একটু ভেবে কোহলি বলেন, ‘আসলে নোভাকের (জকোভিচ) সঙ্গে কিছুদিন ধরেই কথা হচ্ছে। তার সঙ্গে নিয়মিতই মেসেজ আদানপ্রদান হয়। সেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। আমি চাই নোভাক আর কার্লোসের (আলকারাজ) মধ্যে ফাইনাল হোক এবং নোভাকের হাতেই শিরোপা উঠুক। তার জন্য ক্যারিয়ারের এই সময়ে দারুণ ব্যাপার হবে। সর্বকালের সেরা হওয়ার ব্যাপারে যে আলোচনা চলছে, সেটাও থেমে যাবে।’

কোহলির সঙ্গে যোগাযোগের কথা স্বীকার করে জকোভিচ বলেছেন, ‘গত কয়েকবছর ধরেই কোহলির সঙ্গে কথা হচ্ছে। তবে সামনাসামনি দেখা হওয়ার সুযোগ হয়নি। আমার ব্যাপারে এত ভালো ভালো কথা বলার জন্য তাকে ধন্যবাদ। ক্যারিয়ারে সে যা অর্জন করেছে সেটাকে আমি সমীহ করি। আমি ক্রিকেট খেলেছি, তবে খুব ভালো খেলতে পারি না। অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতে ক্রিকেট খুবই জনপ্রিয় খেলা। তাই ভারতে যাওয়ার আগে নিজেকে একটু ঝালাই করে নিতে হবে, যাতে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে অস্বস্তিতে না পড়ি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত