আগ্নেয় অস্ত্র ঠেকিয়ে স্কুল ছাত্রকে অপহরণের ঘণ্টা পর ছাড়ল কিশোর গ্যাং

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৫, ১১:৫৮ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে এবার দিনদুপুরে আগ্নেয় অস্ত্র (পিস্তল) ঠেকিয়ে এক স্কুল ছাত্রকে তুলে নেয় এক কিশোর গ্যাং দলের সদস্যরা। নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে স্কুল ছাত্রকে তুলে নেওয়ার দুই ঘণ্টা পর মারধর করে ফেরত দেওয়া হয়।

জনাকীর্ণ ব্যস্ত সড়কে স্কুল ছাত্রকে আগ্নেয় অস্ত্র (পিস্তল) ঠেকিয়ে মারতে মারতে নিয়ে যাচ্ছে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে।

এর আগে একই এলাকায় অপর এক কিশোর গ্যাং লিডার আকাশের দিকে গুলি ছোড়ে সে ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেছিল। পরে এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অস্ত্রও উদ্ধার করা যায়নি।

এদিকে পুলিশ বলছে স্কুল ছাত্রকে তুলে নেওয়ায় ব্যবহৃত অস্ত্র খেলনা পিস্তল ছিল। রাতেই সেই খেলনা পিস্তল (অস্ত্র) জব্দ করা হয়েছে। সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে কেউ আটক আছে কিনা এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর দেননি শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহাম্মদ আবদুল বারিক।

আজ মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের হাজী প্রি ক্যাডেট স্কুলের সামনে অস্ত্র ঠেকিয়ে তুলে নেওয়ার এ ঘটনা ঘটে।

স্কুল ছুটির পর ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ফেরদৌস আহম্মেদকে অস্ত্রের মুখে তুলে নেয় এলাকার সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং দলের প্রধান কাউসার আহাম্মেদ। এ সময় কিশোর গ্যাং দলের আরও অন্তত ৪/৫ সদস্য এ ঘটনায় জড়িত ছিল।

এর আগে গত সপ্তাহে অপর এক কিশোর গ্যাং লিডার তেহিম মাতবর অস্ত্র উচিয়ে গুলি ছোড়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও এখনো অধরই আছেন সেই কিশোর গ্যাং লিডার। ফের একই এলাকায় অস্ত্রবাজির ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় মানুষ চাপা ভয়ে দিনপার করছে তাদের শিশু সন্তানদের নিয়ে।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্র মো. ফেরদৌস আহমেদ (১৪) উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।

অভিযুক্ত অস্ত্রধারী মো. কাওসার আহমেদ উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পড়া একজন স্কুলছাত্রকে কয়েকজন যুবক মারতে মারতে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় এক স্কুল শিক্ষক ও কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষার্থীকে রক্ষা করতে চেষ্টা করেন। এ সময় টিশার্ট পড়া অস্ত্রধারী ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুল শিক্ষকের দিকে পিস্তল তাক করে ভয় দেখায়। 

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান দুপুরে স্কুল ছুটি হওয়ার পর বেশ কয়েকজন কিশোর এসে ফেরদৌসকে ধরে নিয়ে যাওয়া শুরু করেন। এ সময় ওরা স্কুলছাত্র ফেরদৌসকে মারতে থাকে। এসময় সবাই ডাক চিৎকার শুরু করলে শিক্ষকরা এগিয়ে আসেন। তারা বলেন আমারে রুবেল স্যার এগিয়ে গেলে তার দিকে পিস্তল তাক করে অস্ত্রধারী কাউসার।

হাজী প্রি ক্যাডেট স্কুলের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের ডাক চিৎকার কান্নাকাটি শুনতে পেয়ে আমরা বাইরে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখতে পায়। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করি। কিন্তু অস্ত্রধারীরা বেশ কয়েকবার গুলি করার চেষ্টা করে। এরপর আমরা ভয়ে পিছু হটি।

অপহৃত স্কুলছাত্রের মামা নাদিম মাহমুদ বলেন, ভাগিনা ফেরদৌসকে জোর করে অস্ত্র ঠেকিয়ে তুলে নেওয়ার পর থেকে অস্ত্রধারীর স্বজনদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। এরপর অস্ত্রধারীরা দু’ঘণ্টা পর আমাদের হাতে ফেরদৌসকে তুলে দেয়। তবে কি করতে তাকে তুলে নেওয়া হলো তা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। এ ঘটনায় আমরা এখনো চরম ভয় আর আতঙ্কে রয়েছি। 

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহাম্মদ আবদুল বারিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন স্কুল ছাত্রকে তুলে নিতে ব্যবহৃত অস্ত্রটি খেলনা পিস্তল। বিষয়টি নজরে আসলে দ্রুত সময়ে সেই খেলনা পিস্তলটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে কাল (বৃহস্পতিবার) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে কেউ আটক আছে কিনা এটি নিশ্চত করেনি এ পুলিশ কর্মকর্তা। এদিকে এর আগে গুলি ছোড়া কিশোর গ্যাং লিডার তেহিম মাতবর এখনো গ্রেপ্তার হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন দ্রুত গ্রেপ্তার হবে সে। পুলিশ কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত