ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (বিআইটি) আদলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠনের দাবিতে সড়কে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ-জামালপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের নগরীর রহমতপুর বাইপাস মোড় এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কলেজের সামনে ময়মনসিংহ নগরীর রহমতপুর বাইপাস মোড়ে সড়কে অবস্থান নেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রতিবন্ধকতা দিয়ে সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সব ধরনের যানবাহন এই এলাকা পর্যন্ত এসে থেমে যায়। ধীরে ধীরে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।
এ ঘটনার খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম ও কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে অনড় থাকায় দুপুর ১২টার দিকে সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন ইউএনও ও অধ্যক্ষ। পরে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের আশ্বাসে বিকেল ৩টায় আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি উপক্ষো করে সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলকারীদের সঙ্গে কথা বলেন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। এ সময় যৌক্তিক দাবি পূরণের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে দফায় দফায় আলোচনায় টানা প্রায় ৫ ঘণ্টা পর বিকেল ৩টায় সড়ক অবরোধ থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম।
এর আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মুফিদুল আলম আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের যৌক্তিক দাবি পূরণে আমি আজকেই বিষয়টি শিক্ষা উপদেষ্টাকে লিখিতভাবে অবহিত করব। আশা করছি, আপনারা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে ধৈর্য ধরবেন।
রবিন মোল্লা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, জেলা প্রশাসক শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে দাবি পূরণে বৈঠকের মধ্যস্থতার আশ্বাস দিয়েছেন। এজন্য তিনি আগামী সোমবার পর্যন্ত আমাদের কাছে সময় চেয়েছেন। আমরা প্রশাসনের আশ্বাসের বিষয়টি বিবেচনা করে আপাতত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছি। আশা করছি, সরকার আমাদের দাবি পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অন্যথায় আবারও আমরা রজপথে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানান সমস্যায় জর্জরিত ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। সমস্যা নিরসনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হলেও প্রতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক বলে এলেও বাস্তব কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। দাবি মেনে না নেওয়া হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
শিক্ষার্থী আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কাঠামো আমরা চাই না। অবিলম্বে বিআইটি গঠন না করা হলে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলছে।
এদিকে, যানজটে আটকে পড়া সিএনজি চালক মো. রকি বলেন, বাইপাস মোড় বন্ধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। আমরা সিএনজি অটোরিকশা চালাতে পারছি না। সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তির মধ্যে পড়ছে।
মুক্তাগাছা থেকে আসা বাসের যাত্রী কাফি খান বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে ফলে যানজটে আটকে আছি। জরুরী কিছু কাজ ছিল কিন্তু রাস্তা অবরোধের কারনে সঠিক সময়ে যেতে পারবো না। এতে আমার অনেক ক্ষতি হবে।
