গাইবান্ধায় দুটি বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করেছে শিক্ষার্থীরা। অর্থাৎ বিদ্যালয় দুটির কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
এর মধ্যে পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় তিন শিক্ষার্থী। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টিতে শতভাগ ফেল করেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মনোহরপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তিন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা সবাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে বিদ্যালয়টির কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। একজন প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। তারা সবাই নিয়মিত সরকারের বেতন-ভাতা পান।
শতভাগ ফেল করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এর আগে বিদ্যালয়টির ফলাফল এমন বিপর্যয় হয়নি। তিনজন শিক্ষার্থীই গণিতে ফেল করেছে। এর অন্যতম কারণ গণিতের শিক্ষক ফারুক খালেক দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার অনেক ধারদেনা রয়েছে। বর্তমানে গণিতের ওই শিক্ষক একটি মামলায় কারাগারে আছেন।’
এদিকে, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু তাদের কেউই পাস করেনি।
সোমবার শতভাগ ফেল করার বিষয়টি মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘কেন, কী কারণে শতভাগ ফেল হয়েছে, তা জানতে বিদ্যালয় দুটির প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করা হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এমন ফলাফল আশা করা যায় না।’
