রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ৪-০ গোলের জয়ের অন্যতম সেরা মুহূর্তটি এসেছিল পিএসজির তৃতীয় গোলের সময়। মাত্র ৫৯ সেকেন্ডে ৩৬টি পাস খেলে যেভাবে ফাবিয়ান রুইজের মাধ্যমে গোলটি এসেছে, তা যেন আধুনিক ফুটবলের ‘মাস্টারক্লাস’।
ম্যাচের প্রথমার্ধের ২২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে শুরু হয় এই দারুণ গোলের পূর্বভাষা। কিলিয়ান এমবাপ্পের এক চিপ শট সহজেই ধরেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। এরপর শুরু হয় পিএসজির ধৈর্য ও পরিকল্পনার নিখুঁত প্রদর্শনী।
দোন্নারুম্মা বল দেন জোয়াও নেভেসকে। এরপর একে একে বল ঘোরে নুনো, বেরা, মার্কিনিয়োস, ভিটিনিয়া, আবার দোন্নারুম্মা, হাকিমি, দোয়ে, দেম্বেলে ও শেষে ফাবিয়ান রুইজের পায়ে, যেখান থেকে আসে গোলটি।
লুইস এনরিকে’র কৌশল ছিল পরিষ্কার—রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের উচ্চ প্রেসে টেনে এনে ফাঁকা জায়গা তৈরি করা। ভিটিনিয়ার ড্রিবলিং ও বল নিয়ন্ত্রণে রিয়ালের মিডফিল্ড ধসে পড়ে ডান দিকে। পজিশন হারিয়ে ফেলে চৌমেনি, গনসালো গার্সিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
তখনই প্রথমবারের মতো রক্ষণ থেকে এগিয়ে আসেন হাকিমি। পুরোপুরি ফাঁকা ছিলেন। দোন্নারুম্মার প্রথম-ছোঁয়ার পাসে হাকিমি বল পান, দেন দোয়ের কাছে, আবার ফেরত পান। তখন পিএসজির চার ফরোয়ার্ড বনাম রিয়ালের দুই ডিফেন্ডার—একটি ক্লিন ওয়ার্কিং পজিশন।
দেম্বেলের এক টাচ পাসে হাকিমি ক্রস করেন বক্সে। সেখানে একদম একা ছিলেন ফাবিয়ান রুইজ। সহজেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভালভার্দের চাপ সামলে এক নিখুঁত শটে গোলটি করেন তিনি। গোলরক্ষক কোর্তোয়ার কিছুই করার ছিল না।
পাসে পাসে পিএসজি:
জোয়াও নেভেস - ১, নুনো - ৫, বেরা - ৭, মার্কিনিয়োস - ৩, ভিটিনিয়া - ১০, দোন্নারুম্মা - ১, হাকিমি - ৪, দোয়ে - ২, দেম্বেলে - ১, ফাবিয়ান রুইজ - ২।
এই গোলটি শুধু একটি গোল নয়, বরং একটি দর্শনীয় টিম গোলের নিখুঁত নমুনা, যেখানে একসঙ্গে পরিকল্পনা, পাসিং নেটওয়ার্ক, ফিনিশিং ও প্রতিপক্ষের বিভ্রান্তি—সবকিছুই ছিল পরিপূর্ণভাবে মঞ্চায়িত। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এমন মুহূর্ত সত্যিকার অর্থেই "দৃষ্টিনন্দন শিল্প"।
জোড়া গোলে রেকর্ডের পাতায় মেসি
রিয়ালকে ৪ গোলে উড়িয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে পিএসজি