নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে কুকুরে কামড়ানো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় ভুক্তভোগীদের উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
হাসপাতালসহ আহতদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে নড়াইলের সীমান্তবর্তী এলাকা গঙ্গারামপুর গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ৩ জন আহত হয়।
আহত ইমরান (৪০) জানান, সকালে গঙ্গারামপুর গ্রামের মফিজ ফকিরের ছেলে তানভির রহমান (৮), শিমুল মিয়ার ছেলে সামিউল (৮) বাড়ি থেকে গঙ্গারামপুর হাফেজিয়া ও নূরানী মাদ্রাসায় যাচ্ছিলো। পথে একটি পাগলা কুকুর তাদের কামড়িয়ে আহত করে। এসময় ইমরান দৌড়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলে কুকুর তাকেও আক্রমণ আহত করে।
এদিকে নড়াইল পৌরসভার ডুমুরতলা গ্রামের রাসেল মিয়ার ছেলে আবু রায়হান (৫), রাসেল মিয়ার স্ত্রী লাইজু বেগম (২২), একই এলাকার ফসিয়ার রহমানের স্ত্রী জেলেখা বেগম (৫০), জাহির মোল্যার ছেলে ইমন মোল্যা (১৬), আবু সাঈদের ছেলে চঞ্চল মোল্যা (৩২), মনিরুল ইসলামের মেয়ে রাবেয়া (৫), পৌরসভার ভওয়াখাল এলাকার কবির হোসেনের স্ত্রী রেশমা বেগমকে (৪০) কুকুরে কামড়িয়ে আহত করেছে।
এছাড়া আরো কয়েকটি এলাকায় পাগলা কুকুরের কামড়ে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতরা নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. সুপ্রীতি নন্দী লক্ষ্মী জানান, পাগলা কুকুরের কামড়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশ কিছু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ শিশু। এছাড়া নারী ও পুরুষ রয়েছে। আহত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে।
এদিকে এক রোগীর স্বজন শাকিল আহম্মেদসহ একাধিক রোগীর অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা থাকলেও মেয়াদ না থাকায় বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে কিনে আনতে হচ্ছে। আহতদের অধিকাংশ গরীব রোগী হওয়ায় তাদের পক্ষে দোকান থেকে উচ্চমূল্যে টিকা কিনে দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে নড়াইল জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজল কুমার বকসী বলেন, ‘আমার জানামতে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন আছে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ কিনা সে বিষয়টি আগামী শনিবার খবর নিয়ে আপনাদের (গণমাধ্যমকর্মীদের) জানাতে হবে।’
