হরিরামপুরে এক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৫, ০৮:২৯ পিএম

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে এবার মরিচের উৎপাদন ভালো এবং কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট ছিল উপজেলার মরিচ চাষিরা। কিন্তু গত কয়েকদিনের অতি বৃষ্টিতে মরিচের গাছ মরে গিয়ে এক দিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। একদিন আগে যে বিন্দু মরিচ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। একদিনের ব্যবধানে সেই মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা দরে।

এছাড়াও যে কারেন্ট জাতের মরিচ বিক্রি হতো ১৫০ টাকা কেজি দরে সেই মরিচ একদিন পরেই বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা। আর এক সপ্তাহ আগে এই মরিচের দাম ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। যা সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। 

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বিভিন্ন জাতের মরিচ চাষ হয়েছে ১,৮৬৫ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের চেয়ে ৫০ হেক্টর বেশি।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, টানা বর্ষনের ফলে মরিচ ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেতের মরিচ গাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়াও যে সকল  মরিচ ক্ষেতে মরিচ আছে সেগুলোও বৃষ্টির জন্য তুলতে পারছেন না। এতে করে বিপাকে পরেছেন উপজেলার কয়েক হাজার মরিচ চাষিরা। বাজারে মরিচের আমদানি কম হওয়ায় মরিচের দামও বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।

আরও জানা যায়, উপজেলার বাল্লা, কাঞ্চনপুর, গোপিনাথপুর ও গালা ইউনিয়নগুলোতে সবচেয়ে বেশি মরিচের চাষ হয়। এ অঞ্চলের নিচু এলাকার জমিতে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ক্ষেতে আটকে যায়। মৌসুমের শুরুতে মরিচের ফলন ভাল হলেও মাঝে টানা বর্ষণের ফলে মরিচ খেতে পানি উঠে যাওয়ায় অনেক ক্ষেতের মরিচ গাছ মরে যাচ্ছে। উঁচু এলাকায় কিছু মরিচ ক্ষেত ভাল থাকলেও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আবারও মরিচ চাষিরা পরেছেন বিপদে। 

উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ গোড়াইল গ্রামের ইব্রাহিম মিয়া জানান, আমি এ বছর তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। এবছর মরিচের ফলন অনেক ভালো ছিলো। দামও অনেক ভাল পেয়েছি। মৌসুমের মাঝামাঝিতে একবার বৃষ্টি হওয়ায় নিচু অঞ্চলের অনেক জমিতে পানি জমে মরিচ গাছ মরে গেছে। কিন্তু আমাদের জমিটা উঁচু হওয়ায় বৃষ্টিতে তখন পানি জমেনি। ফলে গাছগুলো অনেক ভাল ছিল এবং ফলনও ছিল। কিন্তু কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ায় আমরা মরিচ তুলতে পারছি না। মরিচ না তুলতে পারার কারণে অনেক মরিচ পেকে যাচ্ছে এবং জমিতে তা ঝড়ে পরছে। এছাড়াও মরিচের নতুন ফুলও আর আসছে না। বৃষ্টিতে পানি জমে মরিচ গাছও মরে যাচ্ছে।

ঝিটকা বাজারের কাঁচামাল আড়তে গেলে কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাবুল হোসেন জানান, গতকাল বুধবার আমরা বিন্দু মরিচ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কিনেছি এবং কারেন্ট মরিচ ১৫০টাকা করে কিনেছ। কিন্তু সেই মরিচ আজ ২১০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত কিনতে হচ্ছে। আর কারেন্ট জাতের মরিচ ২৫০ টাকা করে কিনতে হয়েছে। বর্তমানে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মরিচ সরবরাহ হচ্ছে না। যার ফলে মরিচের দাম তুলনামূলক অনেকটাই বেড়ে গেছে। মরিচের আমদানি বৃদ্ধি পেলে হয়তো আবারও মরিচের দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, অনেক আগে থেকেই এই উপজেলায় মরিচ চাষের জন্য বিখ্যাত। আবাদও অনেক ভাল হয়। ফলে দিনে দিনে মরিচের আবাদও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে মরিচ চাষের জমিগুলো নিচু এলাকা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির কারণে সহজেই পানি উঠে যায়। এতে অনেক জমির মরিচ গাছ নষ্টও হয়ে গেছে। এর ফলে বাজারে মরিচ সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে। যার কারণে বাজারে মরিচের দামও অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে । মরিচের সরবরাহ বাড়লে হয়তো দাম আবার কমে আসবে। আমরা সার্বক্ষণিক কৃষকের খোঁজখবর রাখছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত