ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৫, ১২:২৫ পিএম

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সড়কে তৈরি হওয়া খানাখন্দের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে সরাইল পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও চালকরা।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর, সরাইল বিশ্বরোড (কুট্টাপাড়া মোড়) হয়ে শাহবাজপুর পর্যন্ত এ দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়ে।

যাত্রী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের জন্য সড়ক সরু হয়ে গেছে। এর ওপর আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এসব মোড়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় যানজট আরও তীব্র হয়েছে। শুধু যানজট নয়, খানাখন্দে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। দ্রুত গর্তগুলো মেরামতের দাবি জানিয়েছেন চালক ও যাত্রীরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ ছয় বছর ধরে চলমান। এক পাশের কাজ শেষ হলেও পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সরু এক পাশ দিয়ে যান চলাচল করছে।

আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড় এলাকায় বড় বড় গর্তের কারণে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে অনেকটা হেলে গিয়ে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব গর্তে আটকে গিয়ে যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। এতে যানজট আরও দীর্ঘ হচ্ছে। গতি কমে গিয়ে এসব এলাকায় গাড়িগুলো ঘণ্টায় মাত্র ১ থেকে ৫ কিলোমিটার বেগে চলছে।

এছাড়া আশুগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী লেনে যানজটের প্রভাব ভৈরব সেতু পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। সেতুর ওপর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বাস, ট্রাক ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। অনেক যাত্রীকে রাতভর যানবাহনের ভেতরেই আটকে থাকতে হয়েছে।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রহমান জানান, মহাসড়কের দুইদিকেই ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ের আশপাশে তিন ফুটের বেশি গভীর গর্ত রয়েছে। এইসব গর্তে গাড়ির গতি ৭০ কিলোমিটার থেকে কমে মাত্র ৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। একটি ট্রাক একটি মোড় পার হতে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় নিচ্ছে, এতে যানজট অনিবার্য হয়ে পড়ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত